ফিফার ৭৬তম কংগ্রেসে উত্তপ্ত মুহূর্ত তৈরি হয় ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সভাপতি জিবরিল রাজুব এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমানের মুখোমুখি সাক্ষাতে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দুজনকেই মঞ্চে ডেকে এনে একসঙ্গে দাঁড়ানোর অনুরোধ করলে রাজুব তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ফিফা সভাপতির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান
ইনফান্তিনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, 'প্রেসিডেন্ট রাজুব ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট সুলাইমান, আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। আসুন, শিশুদের মনে আশা জাগাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এগুলো বেশ জটিল বিষয়।' কিন্তু রাজুব তার কাছাকাছি দাঁড়ানোর অনুরোধ রাখেননি, বরং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
ফিলিস্তিনি ফুটবল প্রধানের প্রতিক্রিয়া
পিএফএর সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না। আমরা চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।' জিবরিল রাজুব নিজেও ব্যাখ্যা করে বলেন, 'আমার জায়গা থেকে আমি এখনও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করি এবং মেনে চলি। তবে আমি মনে করি, এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে, ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। ফিফার এই দ্বিমুখী নীতি বন্ধ হতে হবে। আমি হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। খেলাধুলা খেলাধুলাই, আমার কাছে এটিকে সম্মান করা উচিত। কিন্তু অপর পক্ষ যদি বিবির মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিবির পক্ষে এমনভাবে কথা বলে যেন, বিবি একজন মাদার তেরেসা, তবে এমন একজন মানুষের সাথে আমি কীভাবে হাত মেলাতে পারি বা ছবি তুলতে পারি?'
ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট বোঝার আহ্বান
রাজুব আরও বলেন, 'আমি মনে করি, দূরত্ব কমিয়ে মানুষকে একত্রিত করার চেষ্টা করার অধিকার জিয়ান্নির আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, সম্ভবত তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের গভীর কষ্টটা বোঝেন না বা জানেন না।' এই ঘটনা ফিফা কংগ্রেসে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব ফুটিয়ে তোলে।



