নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ও সতর্কতা শন টেইটের
নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ও সতর্কতা শন টেইটের

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের উপস্থিতিতে নাহিদ রানা প্রসঙ্গ এড়ানো যাচ্ছিল না। নিউজিল্যান্ড দলের মিডিয়া ম্যানেজার ক্যালাম কর্নে দিন দুয়েক আগে নাহিদের বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘ছেলেটা সত্যিকারের একটা প্রতিভা…।’ আজ সকালে নাহিদকে নিয়ে আলোচনার ফাঁকে ক্যালামের বিস্ময় যেন কাটছিল না।

শুধু ক্যালামই নন, ঘণ্টা দুয়েক পর সংবাদ সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্কও নাহিদের প্রশংসা করেন। প্রতিপক্ষ দলের সদস্যরা যখন এভাবে কথা বলছেন, তখন বাংলাদেশের কেউ নাহিদের প্রসঙ্গ এড়াতে পারেন না। আর সেটা যদি দলের পেস বোলিং কোচ হন, তাহলে তো কথাই নেই। চট্টগ্রামে আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডের আগে আজ টেইটের সংবাদ সম্মেলন তাই নাহিদময় হয়ে ওঠে। তাঁকে টানা তিন ম্যাচ খেলানো হবে কি না, চোটে পড়ার ঝুঁকি আছে কি না, তাঁর সঙ্গে কাজ করা কতটা উপভোগ্য—এসব প্রশ্নের পাশাপাশি আসে নাহিদের নতুন অস্ত্র যোগ করার প্রসঙ্গও।

নাহিদকে নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও টেইট সতর্ক। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টুয়েন্টিতে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় বল করার প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ রানা টানা জোরে বল করে গেছেন। ১০ ওভারের স্পেলে তিনি একটি বলই করেছেন ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কম গতিতে। তাঁর উইকেট নেওয়া বলগুলোতেও ছিল বৈচিত্র্য—৫ উইকেটের একটি ফুল লেংথে, তিনটি বাউন্সার আর একটা উইকেট নিয়েছেন ইয়র্কারে। উইকেট নেওয়া বলগুলোর কোনোটাই ১৪১ কিলোমিটারের কম গতিতে করেননি। টেইট চান, আপাতত নিজের গতিতেই ভরসা রাখুক নাহিদ। তিনি বলেন, ‘তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন—তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে। অনেক বোলার, যাঁরা ১৩০ কিমি গতিতে বল করেন, তাঁদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাঁদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে।’

টেইট আরও যোগ করেন, ‘কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’

নাহিদের টানা জোরে বল করে যাওয়ার ক্ষমতায় মুগ্ধ টেইট। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদকে ‘সম্পদ’ বলে মনে করেন তিনি। নাহিদকে নিয়ে তৈরি হওয়া রোমাঞ্চটাও টের পান টেইট। খেলোয়াড়ি জীবনে টেইট নিজেও জোরে বল করতেন। নাহিদকে দেখে কি পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে? টেইটের উত্তর, ‘অনেক মিল আছে, কিন্তু কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুব ফিট, আমি এতটা ছিলাম না। আরও ভারী শরীর ছিল, জোরে বল করা কঠিন ছিল। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়, কাজটা খুব সহজ, সে খুব ভালো অ্যাথলেট। খুবই পাতলা আর শক্তিশালী। আমার চেয়ে তার চোটে পড়ার ঝুঁকি কম।’

নাহিদকে দেখে অবশ্য ভিন্ন একজনকেও মনে পড়ে টেইটের। তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচে নাহিদের যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা ইয়র্কার। আমাকে ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তা। ফাস্ট বোলার আসবে, টপ অর্ডারে উইকেট নেবে, লেজের ব্যাটসম্যানদেরও ফিরিয়ে দেবে। আমি এটা পছন্দ করি ব্যক্তিগতভাবে।’