ফিফা প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের মাঠে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তপু বর্মণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে থমাস ডুলির অভিষেকও হয়েছে জয়ের মাধ্যমে।
কোচ ডুলির উচ্ছ্বাস
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা অন্য কোনও দলের খোঁজ করছি, যাতে আবারও ইউরোপে এসে ম্যাচ খেলতে পারি। কারণ এখানকার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার ছিল। আমরা জিতবো, আমরা অবশ্যই জিতবো! আমরা তাদের জন্য লড়াই করি, আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করি।’
সমর্থকদের উপস্থিতি
সমর্থকদের বিপুল আগ্রহই তাকে ইউরোপে নিয়মিত ম্যাচ খেলার কথা ভাবাচ্ছে বলে জানান ডুলি। সান মারিনোর মাঠে খেলা হলেও গ্যালারিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ প্রসঙ্গে ডুলি বলেছেন, ‘সমর্থকেরা প্যারিস থেকেও এখানে খেলা দেখতে এসেছেন। ইউরোপের মাটিতে এটাই আমাদের প্রথম ম্যাচ। ম্যাচের আগে আমরা খেলোয়াড়দের বলেছিলাম—দেখো ছেলেরা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষ শুধু তোমাদের খেলা দেখতে এখানে এসেছে। চলো ওদের মুখে হাসি ফোটাই। ওদের জন্য খেলি এবং একটি ভালো ফলাফল নিয়ে আসি, যাতে ওরা হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে।’
দেশ ছাড়ার আগে মুগ্ধতা
দলের প্রতি মানুষের এই আবেগ দেশ ছাড়ার আগেই ডুলিকে মুগ্ধ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যাওয়ার পর আমি যে উন্মাদনা দেখেছি, তা অভাবনীয়। আমরা যখন দেশ ছাড়ি, তখন ২১১ র্যাঙ্কিংয়ের একটি দলের বিপক্ষে আমাদের একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল। স্টেডিয়াম ছেড়ে যখন আমরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হলাম, বাস থেকে নামার পর দেখলাম প্রায় ২০০ মানুষ ক্যামেরা হাতে আমাদের ভিডিও করছে, দলের ছবি তুলছে, সত্যিই অসাধারণ!’
বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ
বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি আবেগের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ডুলি। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে আমাদের কোটি কোটি সমর্থক রয়েছে। আর তারা সবাই ফুটবল সম্পর্কে বোঝে—তারা প্রত্যেকেই একেকজন কোচ! তাদের এই যে ফুটবল নিয়ে আবেগ ও উন্মাদনা, এর জন্য তাদের শুধু একটু সাফল্য প্রয়োজন। ম্যাচ জেতার পর তারা কতটা আনন্দিত ছিল, তা খেলা শেষেই দেখতে পেয়েছেন। এই জয় মূলত সমর্থকদের জন্য, আর এটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।’
বাস্তবসম্মত লক্ষ্য
বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণাও আছে ডুলির। তবে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান তিনি, ‘সমর্থকদের এই আবেগ খেলোয়াড়দের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। আমরা হয়তো জার্মানি বা ইতালি নই—অবশ্য ইতালি তো কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি। আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে নেই। তবে আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু আছে, তা দিয়ে আমরা এই মানুষগুলোকে খুশি করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, এটি একটি দারুণ সূচনা।’



