ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: স্পটলাইটে থাকবেন যে ৫ গোলকিপার
বিশ্বকাপ ২০২৬: স্পটলাইটে থাকবেন যে ৫ গোলকিপার

ফুটবলে গোলকিপারদের বলা হয় দলের শেষ ভরসাস্থল। ম্যাচ বাঁচানো থেকে শুরু করে শিরোপা জয়ের পথে তাদের অবদান অনেক সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবুও বিশ্বকাপের আলোচনায় সবচেয়ে কম গুরুত্ব পেয়ে থাকেন গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানো মানুষটাই। আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, গোলবারের নিচে দাঁড়ানো ফুটবলারদের নিয়ে ততটা হয় না। অথচ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গোলকিপাররা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এমন ৫ জন গোলকিপার যারা থাকবেন স্পটলাইটে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা)

২০২২ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। ফাইনাল ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং টাইব্রেকারে দৃঢ়তা দেখিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। চাপের মুহূর্তে স্থির থাকা, নেতৃত্ব দেওয়া এবং ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে হতাশ করার দক্ষতা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপারে পরিণত করেছে। রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি)

জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার। 'সুইপার কিপার' ধারণাকে জনপ্রিয় করার কৃতিত্ব অনেকটাই তার। প্রয়োজন হলে গোললাইন ছেড়ে অনেক দূর পর্যন্ত উঠে এসে রক্ষণে সহায়তা করতে পারেন তিনি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং বড় মঞ্চে খেলার অভ্যাস জার্মানির জন্য বড় সম্পদ। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়কও ছিলেন নয়ার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

থিবো কর্তোয়া (বেলজিয়াম)

শট ঠেকানোর ক্ষমতার জন্য কর্তোয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বসেরাদের কাতারে আছেন। দূরপাল্লার কিংবা কাছ থেকে নেওয়া শট—দুই ক্ষেত্রেই তার প্রতিক্রিয়া ও শারীরিক নমনীয়তা অসাধারণ। আকাশপথে আসা বল সামলাতেও তিনি অত্যন্ত দক্ষ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা বেলজিয়ামকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

অ্যালিসন বেকার (ব্রাজিল)

চোটের কারণে গত মৌসুমে কিছুটা ভোগান্তিতে থাকলেও অ্যালিসন এখন আবারও ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন। আধুনিক ফুটবলের চাহিদা অনুযায়ী শুধু সেভ করাই নয়, পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার সামর্থ্যও রয়েছে তার। বল বিতরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দক্ষতার কারণে ব্রাজিলের জন্য তিনি বড় ভরসার নাম।

ডেভিড রায়া (স্পেন)

বর্তমানে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন রায়া। ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলকিপার হয়ে উঠেছেন। গোলরক্ষার পাশাপাশি পায়ের কাজেও সমান দক্ষ এই স্প্যানিশ তারকা। আধুনিক 'সুইপার কিপার' হিসেবে তার ভূমিকা স্পেনের খেলার ধরনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এদের বাইরে আরও কয়েকজন গোলকিপারের দিকে নজর থাকবে বিশ্বকাপে। এডুয়ার্ড মেন্ডি, ইয়াসিন বোনু এবং গুলের্মো ওচোয়ার মতো অভিজ্ঞ গোলরক্ষকরাও নিজেদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে একটি অসাধারণ সেভ যেমন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তেমনি একজন গোলকিপারও হয়ে উঠতে পারেন দলের সবচেয়ে বড় নায়ক। এখন দেখার অপেক্ষা আসন্ন বিশ্বকাপে কে নিজের ঝলক দেখাবেন।