বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা আজ সকালে মারা গেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশ দলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাঠের অনুশীলনও আজ বাতিল করা হয়েছে। তবে বুধবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নেপালকে হারানোর পরিকল্পনা ঠিকই সাজাচ্ছে পিটার বাটলারের দল। গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৪টায় শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি।
সাফের ইতিহাসে বাংলাদেশ-নেপাল
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গত সাত আসরের পাঁচটি শিরোপা ভারতের দখলে। বাংলাদেশ জিতেছে দুটি শিরোপা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ছয়বার ফাইনাল খেলেও এখনও ট্রফি জিততে পারেনি নেপাল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। সবশেষ দুটি ম্যাচে নেপাল যথাক্রমে ৩-১ ও ২-১ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশের কাছে।
গ্রুপ পর্বের পরিস্থিতি
গ্রুপ পর্বে নিজেদের দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে নেপাল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে।
কোচ পিটার বাটলারের বক্তব্য
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ পিটার বাটলার শিউলির মায়ের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি মনে করি এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিউলির পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানানো এবং তাদের জন্য প্রার্থনা করা।' তিনি আরও বলেন, 'জানেন তো, যখন আপনি কোনো টুর্নামেন্টের এমন পর্যায়ে থাকবেন, তখন মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত অনুশীলনেরও একটা ঝুঁকি থাকে। তাই আমার মনে হয় না, শিউলির মায়ের মৃত্যুর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দলের বেশ অভিজ্ঞ একজন সদস্য এবং সবার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রিয়।'
নেপাল ম্যাচে সবাইকে সর্বোচ্চটি দিয়ে খেলার আহ্বান জানিয়ে কোচ বলেন, 'তবে, প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে, আমি মনে করি, আমাদের হাতে থাকা সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে; যেমন, ভিডিও অ্যানালাইসিস বা এখানকার চারপাশের পরিবেশ, যা বেশ সতেজ। আমরা আজ বিকেলে হাঁটতেও বেরিয়েছিলাম। আজ আমরা ফুটবলে একটা কিক দেইনি ঠিকই, তবে আমার মনে হয় না, এটা আমাদের জন্য কোনো অসুবিধা তৈরি করবে। এই বিরতিটা সবাইকে কিছুটা সময় দিয়েছে ঘটে যাওয়া বিষয়টি নিয়ে ভাবার এবং উপলব্ধি করার যে, জীবন কখনো কখনো কতটা ছোট এবং নিষ্ঠুর হতে পারে।'
ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলার আহ্বান জানিয়ে ইংলিশ কোচ বলেন, 'আমি মেয়েদের ঠিক এটাই বলছিলাম যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের প্রস্তুত করা এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। মূল চ্যালেঞ্জটা হলো দুঃখ, মর্মান্তিক ঘটনা এবং বিশেষ করে আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি, সেই শোককে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করা। কাজটা মোটেও সহজ নয়। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই মেয়েরা মাঠে গিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানোর সক্ষমতা রাখে।'



