ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতু এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। অন্যদিকে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দুপুরের পর থেকে তেমন যানজট দেখা যায়নি।
যানজট নিরসনে ব্যবস্থা
যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়েছে। এরপর শুধু উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে যানবাহন চলতে দেওয়া হয়। টোল প্লাজা সূত্র জানায়, ভোর ৪টা ৩৫ থেকে সকাল ৬টা ৪০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট এবং রাত ১২টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে চাপ কিছুটা কমলেও পরে আবার বাড়তে থাকে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এক জায়গাতেই বাস–ট্রাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টাঙ্গাইলের বিক্রমহাটিতে যানজটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মোতাহার হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা থেকে রাত ১১টায় রওনা হয়েছিলেন, পুরো রাস্তাতেই যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি মালয়েশিয়া থেকে রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন। এরপর ভাড়া করা ট্যাক্সিতে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন; ৯ ঘণ্টা লেগেছে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে।
যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় সকালের বৃষ্টির কারণে। ট্রাকে আরোহীদের ভিজে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ট্রাকে আরোহী সাভারের পোশাক কারখানার শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, ‘সারা রাত যানজটে কষ্টে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়েছি।’ নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হয়; শৌচাগার ব্যবহারের জন্য মহাসড়কের আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
যানজটের কারণ
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তিন গুণের বেশি যানবাহন চলাচল করছে।
গাজীপুরে স্বস্তি
গত দুই দিনের তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ কাটিয়ে আজ দুপুরের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে গাজীপুরের মহাসড়কে। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বড় কোনো যানজট নেই, মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন চন্দ্রা এলাকায় দেখা যায়, চিরচেনা যানজট নেই, নেই পরিবহনের সংকটও। যাত্রীরা সহজেই পছন্দের পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘আজ চন্দ্রায় এসে দেখছি কোনো যানজট নেই; বরং যাত্রীর চেয়ে পরিবহনই বেশি। এখানে সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর আগে কিছুটা যানজট আছে বলে শুনেছি।’ রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, গতকাল যে চাপ ছিল, আজ তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, আজ ঘরমুখী মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন। এরপরও চন্দ্রা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।



