ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর ভেতর থেকে চালকসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসটির বেশ কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বাসের তেমন ক্ষতি হয়নি।
ফিটনেসহীন যানবাহন
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি যানেরই ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল না। বিআরটিসির বাসটির (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৪৩৬) ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। এরপর আর নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া ২০২৩ সালের পর ট্যাক্স-টোকেনের সরকারি ফিও পরিশোধ করা হয়নি। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির (ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-১২২৯) ২০০৯ সালের পর আর কোনো ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি পরিবহনের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করতেই সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি প্রতিষ্ঠিত। সরকার এ জন্য নানা সময় ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সরকারি সংস্থার বাসের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ না থাকা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর বিআরটিএ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে, যাতে যানবাহনের হালনাগাদ তথ্য থাকে। এই প্রতিবেদনেই ফিটনেস ও কর বকেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিআরটিসির বাসটি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল, আর অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, বাসটির ফিটনেস সনদ ও কর বকেয়া থাকায় এটি চলাচলের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত নয়। অ্যাম্বুলেন্সটিও দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলছিল। এ ধরনের ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরে।



