২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’কে আন্ডারডগদের মৃত্যুকূপ বললে ভুল হবে না। এই গ্রুপে রয়েছে চারটি দল—মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেকিয়া। শক্তির বিচারে দলগুলো প্রায় সমান, প্রত্যেকেরই নিজস্ব গল্প ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মেক্সিকো আয়োজক হিসেবে নিজেদের মাঠে খেলবে, দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটাই হতে পারে সন হিউং মিনের শেষ বিশ্বকাপ, আর চেকিয়া ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে এসেছে।
গ্রুপের চিত্র
১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এই ম্যাচটি ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পুনরাবৃত্তি, যা সেবার জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম আজটেকায়।
মেক্সিকো: আয়োজকের শক্তি
খেলার ধরন ও কৌশল
কোচ হাভিয়ের আগিরে তৃতীয়বারের মতো মেক্সিকোর দায়িত্ব নিয়ে দলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন। ২০২৫ সালে কনকাকাফ নেশনস লিগ ও গোল্ড কাপ জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। মার্চে তারা পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতেও ভালো লড়াই করেছে।
আক্রমণ: মেক্সিকো ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলে। এডসন আলভারেজ মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করেন, তবে ইনজুরি তাকে নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। রাউল হিমেনেজ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন; ২০২৫ নেশনস লিগে তার ৪ গোল ও ফুলহ্যামে ধারাবাহিক ফর্ম তাকে নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। হুলিয়ান কিনোনেস ও রোবের্তো আলভারাদো বক্সের বাইরে থেকে সুযোগ তৈরি করেন, আর এরভিং লজানো ডান দিক থেকে গতি ও রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করেন। চেনা মাঠ ও উচ্চতার সুবিধা (মেক্সিকো সিটি ও গুয়াদালাহারা) ইউরোপীয় ও এশীয় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
রক্ষণ: সেজার মন্তেস ও ইওহান ভাসকেজ সেন্টারব্যাক জুটি; দুজনেরই ইউরোপীয় ক্লাবের অভিজ্ঞতা আছে। জেসুস গায়ার্দো বাম দিকে ১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এডসন আলভারেজ ফিট থাকলে রক্ষণের সামনে ঢাল হিসেবে কাজ করবেন। তবে গোলকিপার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে; ৪০ বছর বয়সী গিয়ের্মো ওচোয়ার দলে ফেরা বর্তমান গোলরক্ষকদের প্রতি কোচের আস্থার অভাব প্রকাশ করে। রাউল রাঞ্জেল মার্চে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করেছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে তারই সম্ভাবনা বেশি।
চ্যালেঞ্জ: ফরোয়ার্ড লাইনে ধারাবাহিকতা আনা ও দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ ধরে রাখা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধ ভালো হলেও দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল।
সম্ভাব্য একাদশ: রাঞ্জেল; সানচেজ, মন্তেস, ভাসকেজ, গায়ার্দো; ফিদালগো, লিরা, ভার্গাস; আলভারাদো, হিমেনেজ, ভেগা।
সেট পিস: কর্নার কিকে ব্রায়ান গুতিয়েরেজ, আলেক্সিস ভেগা; ডিরেক্ট ফ্রি কিকে রাউল হিমেনেজ; পেনাল্টিতে হিমেনেজ ও অরবেলিন পিনেদা।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬ বছর পর প্রত্যাবর্তন
খেলার ধরন ও কৌশল
কোচ হুগো ব্রুসের জন্য এটাই শেষ বিশ্বকাপ; ৭৪ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান কোচ ২০১৭ সালে ক্যামেরুনকে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতিয়েছিলেন এবং ২০২৩ আফকনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গেছেন। তিনি ৪-৩-২-১ ফর্মেশন ব্যবহার করেন। রনওয়েন উইলিয়ামস গোলপোস্টে ছন্দে আছেন, আর তেবোহো মোকোয়েনা মাঝমাঠে মূল ভূমিকা পালন করেন।
আক্রমণ: দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণ এখনও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি ২০১০ বিশ্বকাপে সিফিও শাবালালার গোলে দেখা গিয়েছিল। লাইল ফস্টার টার্গেট স্ট্রাইকার হিসেবে লিংক-আপ প্লে ও এরিয়াল বল দখলে দক্ষ। অসউইন অ্যাপোলিসের ৮টি আন্তর্জাতিক গোল আছে; তিনি আন্ডাররেটেড হলেও বিপজ্জনক। রেলেবোহিলে মোফোকেং (২১ বছর) সরাসরি খেলা ও প্রেসিংয়ে পারদর্শী। মোকোয়েনার লম্বা পাস রক্ষণ থেকে আক্রমণে ট্রানজিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রক্ষণ: রনওয়েন উইলিয়ামস দলের ভিত্তি; ২০২৩ আফকনে কোয়ার্টার ফাইনালে কেপ ভার্দের বিপক্ষে তিনি চারটি পেনাল্টি বাঁচিয়েছিলেন। এমবেকেজেলি এমবোকাজি শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণেও অবদান রাখেন; পানামার বিপক্ষে তার লং রেঞ্জ গোল প্রমাণ করে তিনি কতটা বিপজ্জনক।
চ্যালেঞ্জ: লাইল ফস্টারের পাশে নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরার খুঁজে বের করা, মেক্সিকোর ওয়াইড রানারদের বিরুদ্ধে রক্ষণ সংগঠিত রাখা, এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট নেওয়া।
সম্ভাব্য একাদশ: উইলিয়ামস; মুদাউ, ওকন, এমবোকাজি, মোদিবা; এমবাথা, মোকোয়েনা; অ্যাপোলিস, মোফোকেং, মোরেমি; ফস্টার।
সেট পিস: কর্নার কিকে অ্যাপোলিস, মোকোয়েনা; ডিরেক্ট ফ্রি কিকে অ্যাপোলিস ও মোকোয়েনা; পেনাল্টিতে অ্যাপোলিস ও ফস্টার।
দক্ষিণ কোরিয়া: সন হিউং মিনের শেষ অধ্যায়
খেলার ধরন ও কৌশল
এটাই সন হিউং মিনের শেষ বিশ্বকাপ। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ১৪০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং বর্তমানে লস এঞ্জেলস এফসিতে খেলেন। কোচ হং মিয়ং বো, যিনি ২০০২ বিশ্বকাপে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেন। দল এএফসি তৃতীয় রাউন্ডে অপরাজিত থেকে কোয়ালিফাই করলেও মার্চে আইভরি কোস্টের কাছে ৪-০ ও অস্ট্রিয়ার কাছে ১-০ হেরেছে। সেই ম্যাচে রক্ষণের দুর্বলতা, বিশেষ করে কাটব্যাক গোল ও লেট ক্রসে সমস্যা স্পষ্ট হয়েছে।
আক্রমণ: সন হিউং মিন ছন্দে থাকলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে একাই হারাতে পারেন; ক্লোজড স্পেসে ফিনিশিং ও বড় মুহূর্তে দলকে টেনে তোলার ক্ষমতা তার প্রধান অস্ত্র। এপ্রিলে এমএলএসে তিনি এক ম্যাচে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। কাং ইন লি দলের সবচেয়ে টেকনিক্যাল খেলোয়াড়; পিএসজিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিয়মিত খেললেও ইনজুরির কারণে ২০২৫/২৬ মৌসুমে গেমটাইম কম পেয়েছেন। হোয়াং হি চান বাম দিক থেকে প্রেসিংয়ে নেতৃত্ব দেন এবং গোল করার ক্ষমতা রাখেন। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে কার্যকর, যেমন ২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে দেখা গিয়েছিল।
রক্ষণ: বায়ার্ন মিউনিখের কিম মিন জায় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার; তিনি সেট পিসে ও বল নিয়ে খেলায় সংগঠিত করেন। ৩-৪-২-১ ফর্মেশন আক্রমণে শক্তি যোগালেও উইং ব্যাক উপরে থাকলে রক্ষণে শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মার্সেল সাবিত্জারের গোলে ধরা পড়ে।
চ্যালেঞ্জ: থ্রি-ব্যাক নাকি ফোর-ব্যাক সিস্টেম—এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। কাং ইন লি ও সনকে একসাথে ছন্দে আনা। ১১ জুন চেকিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে।
সম্ভাব্য একাদশ: কিম সিউং গিউ; চো ইউ মিন, কিম মিন জায়, কিম জু সিউং; সিওল ইয়ং উ, কিম জিন গিউ, হোয়াং ইন বম, লি তায় সক; লি কাং ইন, হোয়াং হি চান, সন হিউং মিন।
সেট পিস: কর্নার কিকে সন, কাং ইন লি; ডিরেক্ট ফ্রি কিকে সন ও কাং ইন লি; পেনাল্টিতে সন ও হোয়াং হি চান।
চেকিয়া: নাটকীয় উত্তরণ
খেলার ধরন ও কৌশল
চেকিয়ার বিশ্বকাপে আসার পথ নাটকীয় ছিল। তারা কোয়ালিফাইং গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার পেছনে দ্বিতীয় হয়েছিল, তারপর পাঁচ দিনে দুটি পেনাল্টি শুটআউট জিতে টিকিট পেয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ মিনিটে ০-২ পিছিয়ে পড়ে লাদিস্লাভ ক্রেজচির ৮৬তম মিনিটের হেডারে ২-২ করে; শুটআউটে ৪-৩ জিতে। গোলকিপার মাতেই কোভার দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়েছেন। ডেনমার্কের বিপক্ষেও একই ঘটনা: পাভেল সুলক তিন মিনিটে গোল করেন, ডেনমার্ক সমতায় ফেরে, ক্রেজচি ১০০তম মিনিটে আবার গোল করেন, ডেনমার্ক ১১১তম মিনিটে সমতায় ফেরে, এবং শুটআউটে চেকিয়া জিতে। নতুন কোচ মিরোস্লাভ কোউবেক ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেন, প্লেঅফ শুরুর কয়েকদিন আগে ইভান হাসেককে বরখাস্ত করার পর।
আক্রমণ: চেকিয়ার আক্রমণ শারীরিক শক্তি ও সেট পিসের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। পাত্রিক শিক এই গ্রুপের সনের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক স্ট্রাইকার; তার ২৫টি আন্তর্জাতিক গোল আছে, শেষ ১১ ম্যাচে ৭টি। থমাস সুচেক মাঝমাঠের ইঞ্জিন; তার শক্তি, এরিয়াল দক্ষতা ও সেট পিসে গোল করার ক্ষমতা ভয়ংকর। পাভেল সুলক পায়ের কাজ ও সরাসরি আক্রমণে দক্ষ। লাদিস্লাভ ক্রেজচি শুধু ডিফেন্ডার নন, সেট পিসে গোলদাতাও; বাছাইপর্বে চেকিয়া সেট পিস থেকে ৮টি গোল করেছে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ।
রক্ষণ: পিএসভি এইন্দহোভেনের গোলকিপার কোভার গ্রুপের সেরা গোলকিপারদের একজন; দুটি শুটআউটে তার সেভ দলকে বাঁচিয়েছে। রবিন হ্রানাক ও ক্রেজচি সেন্টারব্যাক জুটি; দুজনেই হফেনহাইম ও উলভারহ্যাম্পটনে খেলেন। ভ্লাদিমির কউফাল হফেনহাইমে বুন্দেসলিগায় খেলেন, ডেভিড জুরাসেক বাম দিকে গতি ও ক্রস যোগান। আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিপক্ষে দুটি করে গোল খেলেও সার্বিক রক্ষণ সংগঠিত ছিল।
চ্যালেঞ্জ: সেট পিস ভালোভাবে ব্যবহার করা; শুধু শিকের ওপর নির্ভর না করে ওপেন প্লে থেকে গোলের পথ খুঁজতে হবে। নতুন কোচ কোউবেক মাত্র দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ কোচ করেছেন; দলের পরিচিত কাঠামো ধরে রাখাই তার বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্ভাব্য একাদশ: কোভার; চালুপেক, হ্রানাক, ক্রেজচি; কউফাল, সুচেক, দারিদা, জুরাসেক; প্রোভোড, শিক, সুলক।
সেট পিস: কর্নার কিকে কউফাল, জুরাসেক; ডিরেক্ট ফ্রি কিকে সুচেক; পেনাল্টিতে সুচেক, চোরি ও শিক।
গ্রুপ ‘এ’র ভবিষ্যদ্বাণী
স্বাগতিক মেক্সিকো গ্রুপ জেতার শক্তিশালী দাবিদার; তাদের সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। চেকিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ২০ শতাংশ করে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মেক্সিকোর গ্রুপ জেতার কারণ: নিজেদের মাঠে খেলা, আজটেকা ও আকরন স্টেডিয়ামে বিশাল দর্শক সমর্থন, হিমেনেজের ফর্ম, আলভারেজ ফিট থাকলে মাঝমাঠের শক্তি, কোচ আগিরের সংগঠিত দল ও উচ্চতার সুবিধা। ১৯৮৬ সালে নিজেদের মাঠে শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল মেক্সিকো; এবার সেই বাধা পেরোনোর সুযোগ আছে।
দ্বিতীয় স্থানের লড়াই চেকিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে হবে। চেকিয়ার সেট পিস ভয়ংকর, রক্ষণ নির্ভরযোগ্য, আর চরিত্র ও মানসিক শক্তি প্রমাণিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সন, লি ও কিম একসাথে ছন্দে থাকলে চেকিয়ার চেয়ে ভালো দল, কিন্তু রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ৩০ মিনিট ভালো লড়াই করতে পারে, তবে উচ্চতা, ভিড় ও মেক্সিকোর মান তাদের পিছিয়ে দেবে। তাদের সেরা সম্ভাবনা একটি ম্যাচে এক পয়েন্ট পাওয়া, সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়া বা চেকিয়ার বিপক্ষে। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরাটাই বাফানা বাফানার জন্য বড় সাফল্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ: ১১ জুন দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেকিয়া। এই ম্যাচের বিজয়ী নকআউটের টিকিট কাটার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে। গ্রুপ ‘এ’ সত্যিকার অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক; একে আন্ডারডগদের গ্রুপ অফ ডেথ বললে অমূলক হবে না।



