২০২৬ বিশ্বকাপ এখনো শুরু হয়নি, তবে ফিফা ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আরও বড় করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ৪৮ দল থেকে বাড়িয়ে ৬৬ দলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবটি বর্তমানে ফিফার অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রস্তাব প্রথমে উত্থাপন করেছিল দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের আরও বেশি দেশকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। সম্প্রতি ধারণাটি ফিফার ভেতরে আরও জোর পেয়েছে এবং এটি এখন আর অবাস্তব বলে বিবেচিত হচ্ছে না।
ফিফা সভাপতির দৃষ্টিভঙ্গি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপ হওয়া উচিত একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক উৎসব। দলের সংখ্যা বাড়ালে সেইসব দেশ যারা আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, তারাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এই ধারণা ফিফার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের গুরুত্ব
২০৩০ সালের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি যদি মাঠে ও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তাহলে আরও বড় আসরের দিকে যাওয়ার চাপ বাড়বে। ২০৩০ বিশ্বকাপ মূলত স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও কিছু বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৬৬ দলের টুর্নামেন্ট হলে স্টেডিয়াম, অবকাঠামো ও সূচি নিয়ে বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
সমালোচকদের মতামত
সমালোচকরা মনে করেন, দল বাড়ালে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার মান কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের ওপর ম্যাচের চাপ অনেক বেশি। আরও বড় টুর্নামেন্ট সেই চাপ আরও বাড়াবে। তবে ফিফার নজর মূলত বেশি ম্যাচ, বেশি দেশের অংশগ্রহণ ও বিশ্বজুড়ে আরও বড় দর্শকশ্রেণি তৈরি করে আর্থিক সুবিধা অর্জনের দিকে।
এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে সম্ভাবনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপই নির্ধারণ করবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের জন্য পৃথিবী প্রস্তুত কি না। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই আলোচনা চলমান।



