পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাস। আউট হওয়ার পর মাঠ থেকে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত পুরো পথ জুড়ে দর্শকদের করতালি ও অভিনন্দন জানান লিটনকে। মুশফিকুর রহিম সিঁড়িতে নেমে এসে তাঁর পিঠ চাপড়ে দেন। ঘণ্টাখানেক পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন লিটন, যেখানে তাঁর ক্লান্তি থাকলেও রসিকতায় তা ঢেকে যায়।
বিপর্যয়ের মাঝে ১২৬ রানের ইনিংস
কাল বিপর্যয়ের মধ্যেও ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন টেলএন্ডারদের বাঁচিয়ে। এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, 'একজনকে ৬ বল খেলতে দিয়েছিলাম, সে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। এরপর আমি আরও সতর্ক হয়ে গেছি, আমারই খেলা লাগবে।' নবম উইকেটে শরীফুল ইসলামের সঙ্গে ৬৪ রানের জুটি বেঁধেছিলেন, যেখানে তাঁর রান ৫১। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার সময়ও শরীফুল সঙ্গী ছিলেন। লিটন যখন ৯৯ রানে অপরাজিত, তখন শরীফুল এলবিডব্লু হন।
সেঞ্চুরির অপেক্ষা ও টেনশন
আম্পায়ারের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যান রিভিউ নেওয়ার তাড়া ছিল লিটনেরই বেশি। সেঞ্চুরির অপেক্ষা আরও বেড়েছে পানি পানের বিরতি আসায়। লিটন বলেন, 'আমি অনেক টেনশনে ছিলাম। বিশেষ করে যখন শরীফুলের পায়ে লাগল। আমি ওকে বারবার বলছিলাম সামনের পায়ে খেলতে, কারণ ও অনেক লম্বা।' সপ্তম উইকেটে তাইজুলের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়েন লিটন।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও লিটনের জবাব
লিটনকে পুরো ইনিংসে পাকিস্তানের বোলারদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। শুরু থেকেই ফিল্ডার ছড়িয়ে দেওয়া ছিল বাউন্ডারি রুখতে। আগের দুই ইনিংসে শর্ট বলে আউট হওয়ায় তাঁকে টানা বাউন্সার দেওয়া হয়। লিটন পুল-হুকে বাউন্ডারি মারলেও শেষে তেমন শটেই ক্যাচ দেন। তবে তাঁর আফসোস নেই, 'যেহেতু পরপর দুই ইনিংসে বাউন্সারে আউট হয়েছি, তাদের কাছে এটাই সেরা অপশন ছিল। কিন্তু আমি বাউন্সার উপভোগ করেছি।'
ক্রাইসিস ম্যান লিটন
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে একইভাবে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন লিটন। সে ম্যাচে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কেউ তাঁকে 'ক্রাইসিস ম্যান' বলতে চাইলে লিটনের উত্তর, 'টেস্টে আমার ভূমিকাটাই আলাদা। দেখবেন কোনো কোনো দিন টপ অর্ডাররা রান করছে। আমি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামি, উইকেটে তখন বল ঘোরা শুরু হয়। আমার ক্রিকেটই এমন—সময় উপভোগ করে খেলতে হবে। এটাও চ্যালেঞ্জ, কিন্তু উপভোগের অনেক কিছু আছে।'
দলের সংগ্রহ ও উইকেটের অবস্থা
লিটনের সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় কাটিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান পায় বাংলাদেশ। তাতেও স্বস্তি নেই। লিটনের ব্যাটিংয়ের সময় বোঝা গেছে, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হচ্ছে। পাকিস্তানের খুররম শেহজাদ বলেন, 'এই পিচ ঢাকার চেয়ে আলাদা। ওখানে বোলাররা সাহায্য পেয়েছে। এখানে মনে হচ্ছে অনেক রান করা যাবে। আমরা ৪০০-৪৫০ রান করতে পারব।' লিটনও উইকেটের সাহায্য বুঝতে পেরেছেন, 'বোলারদের লম্বা সময় ধরে ভালো বল করতে হবে এবং ভালো জায়গায় বল করতে হবে। লিডটা যেন সময় নিয়ে পায়।'



