আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে সিলেট টেস্ট। সকাল ১০টায় শুরু হবে খেলা। লাক্কাতুলায় মিরপুর টেস্টে সফরকারীদের হারানোর আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে মরিয়া শান্ত বাহিনী। সিলেট টেস্টে জয় পেলে ঘরের মাটিতে প্রথম বারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়বেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃষ্টি হতে পারে বড় প্রতিপক্ষ
তবে সিলেটে দুই দলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হতে পারে বেরসিক বৃষ্টি। যেখানে লাক্কাতুলায় প্রথম দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় দিনে ৯০, তৃতীয় দিনে ৬০, চতুর্থ দিনে ৬০ ও পঞ্চম দিনে ৯০ শতাংশ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল অনুশীলন করেছে দুদল। সকালে অনুশীলন করেছেন শান্ত, লিটন, মিরাজ, তাসকিন ও নাহিদ রানারা। বাংলাদেশ দল একাডেমি মাঠে অনুশীলন করতে পারলেও দুপুরে চায়ের নগরী জুড়ে নামে ঝুম বৃষ্টি। যার কারণে পাকিস্তানকে অনুশীলন করতে হয়েছে ইনডোরে।
মুশফিকের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের আবহাওয়া নিয়ে মুশফিকুর রহিম বলেন, 'যে সময় খেলা হচ্ছে, আমাদের এখানে এটা বর্ষা মৌসুমই ধরে। সৌভাগ্য যে, বৃষ্টির পরও মিরপুরে ফলাফল এসেছে। এখানে একটা জিনিস ভালো, মিরপুরের মতো এখানেও ড্রেনেজ সিস্টেম ওয়ার্ল্ড ক্লাস। বিসিএলে ম্যাচেও চার দিন রাতে অনেক বৃষ্টির পরও প্রতিদিন সাড়ে ৯টায় ম্যাচ শুরু হতো।' এছাড়াও সিলেটের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাটার বলেন, 'এখানে সুযোগ-সুবিধাও বাংলাদেশের ওয়ান অব দ্য টপ ক্লাস। উইকেটের কোয়ালিটি বলুন, হোটেল বলুন বা খাবার।'
উইকেট ও অস্ট্রেলিয়া সফর
সিলেটে টেস্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে উইকেট নিয়ে। ঢাকা টেস্টে স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিং ও বোলিং দুই ইউনিটে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে সিলেট টেস্টেও সবুজ উইকেট তৈরি করা হয়। এমন উইকেট তৈরি করার পেছনে অন্যতম কারণ আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর। আগস্টে টেস্ট সিরিজ খেলতে প্রথম বারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সেই সিরিজও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। যে কোনো ফরম্যাটেই এটাই প্রথম বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে রোমাঞ্চিত মুশফিক। সফর নিয়ে তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া আমার ক্যারিয়ারের তো কখনো খেলা হয়নি। তবে আমাদের বোলিং ভারসাম্য আছে। বোর্ডে রান দিলে যে কোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ দিতে পারি। এটা আমার জন্য নতুন এক জিনিস। চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি।'
শান্তর প্রশংসা
সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। চাপের মুখে অধিনায়কের ব্যাটে তাকিয়ে থাকে গোটা দেশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনেও অধিনায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মুশফিক। বলেন, 'শান্ত মাশাআল্লাহ খুবই ভালো ব্যাটিং করছে। ওর দায়িত্ব যত বেশি আসে, তত পজিটিভলি নেয় এবং ডেলিভার করে। একজন খেলোয়াড় যখন এভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়, দলের জন্য এটা বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সবাই অনুসরণ না করে উপায় থাকে না। হি ইজ গ্রেট লিডার। এই ধারাবাহিকতা যেন ওয়ানডে বা কয়টা ফরম্যাট খেলছে সেখানেও নিয়ে যায়।'
দলের ধারাবাহিকতা ও মুশফিকের ভবিষ্যৎ
এছাড়াও অভিজ্ঞ মুশফিকের মতে, আগেও বাংলাদেশ দলে অনেক ভালো ক্রিকেটার খেলেছে, কিন্তু এই দল সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক। বর্তমান দল নিয়ে মুশফিকের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসী সুর। বলেন, 'এখানে ধারাবাহিক পারফরমারের সংখ্যাই বেশি। যে কোনো চ্যালেঞ্জ এলে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। গত পাঁচ-ছয় বছরে এটা বড় পরিবর্তন।' সাধারণত সংবাদ সম্মেলনে খুব একটা আসেন না মুশফিক। নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ মাঠে রাখতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও ধারাবাহিকভাবে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এমন পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও ফিরতে পারেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। এমন গুঞ্জন থাকলেও তা উড়িয়ে দিয়েছেন মুশফিক নিজেই। ক্যারিয়ারের গোধূলী লগ্নে সব ফোকাস রাখতে চান কেবল টেস্ট ক্রিকেটে। ক্রিকেটের এই রাজকীয় ফরম্যাটকে কবে নাগাদ বিদায় জানাবেন, দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। এই বিষয়ে তিনি বলেন, 'টেস্ট ক্রিকেট থেকে কবে অবসরে যাব এটা আসলে এখনো ঐরকম করে সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইনশাআল্লাহ খুব ভালো সময় থাকতে থাকতে ছেড়ে দিব।' বর্তমানে নিজে পারফরম করার পাশাপাশি ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অর্জন করা অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের মধ্যে ভাগ করার চেষ্টা করছেন মুশফিক। বলেন, 'আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করি। একটু হলেও ধারণা আছে। শুধু টেস্টই নয়, মুমিনুল বলেন বা তরুণ অমিত, আমরা ২৫-৩০ বছর ধরে সবাইকে চিনি। কোথাও না কোথাও একসঙ্গে খেলেছি। আমাদের সবার বোঝাপড়া অনেক ভালো। ওদের যেটা লাগে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমিও আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে দলে কন্ট্রিবিউটের চেষ্টা করি।'



