গর্বের তিস্তা এক্সপ্রেসে এখন বৃষ্টির পানি, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে
গর্বের তিস্তা এক্সপ্রেসে বৃষ্টির পানি, দুর্ভোগ চরমে

বৃষ্টিতে ভিজছে তিস্তা এক্সপ্রেসের যাত্রীরা

দেওয়ানগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী ভিআইপি ট্রেন আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস। প্রতিদিন জামালপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ উত্তরবঙ্গের হাজারো যাত্রী এই ট্রেনে ভ্রমণ করেন। সরকারি রাজস্ব আয়েও রেকর্ড গড়েছে ট্রেনটি। কিন্তু জামালপুর জেলাবাসীর গর্বের লাল-সবুজ রঙের এই ট্রেনের এখন প্রায় অর্ধেকই সাদা। মূল কোচ কেটে নিয়ে সংযোজন করা হয়েছে অন্তত ৩০ বছরের পুরোনো ভাঙা, অকেজো ও নিম্নমানের কোচ। ফলে এসব কোচের ছাদ চুইয়ে ঝরছে পানি, দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

নতুন কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু করে তিস্তা

স্থানীয় রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা নতুন লাল-সবুজ রঙের অত্যাধুনিক ১৮টি কোচ দিয়ে আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর। তৎকালীন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ট্রেনটির কদর ও চাহিদা থাকায় সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

হঠাৎ করেই পুরোনো কোচ সংযোজন

কিন্তু গত এক মাস আগে ট্রেনের নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের সাতটি কোচ কেটে নিয়ে অন্য লাইনের পুরোনো ও ভাঙা সাদা রঙের কোচ সংযোজন করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কোচের ছাদ চুইয়ে ও জানালা দিয়ে পানি ঝরছে। যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের অভিযোগ

এ ট্রেনে ভ্রমণকারী জামালপুর শহরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ২৯ এপ্রিল তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ‘ঠ’ কোচে জামালপুরে আসছিলেন। বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পর থেকে প্রায় পুরো পথ স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে বৃষ্টির পানিতে কষ্ট করেছেন। একই ট্রেনের আরেক যাত্রী কলেজছাত্র ইয়াছির আরাফাত আক্ষেপ করে বলেন, আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনটি নিয়ে আমরা গর্ব করতাম। আর সেই ট্রেনে উঠে এখন বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবাধিকার কর্মীর প্রতিক্রিয়া

জামালপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই রেলপথে নতুন কোচের আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনটি এনেছি। আমরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আগের ভালো কোচগুলো অবিলম্বে ফেরত দেওয়াসহ যাত্রী চাহিদামতো অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় জামালপুরের সচেতন মানুষ ও রেলযাত্রীদের নিয়ে রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

রেল কর্মকর্তাদের বক্তব্য

এ ব্যাপারে তিস্তা আন্তঃনগর ট্রেনের পরিচালক (২৯ এপ্রিল দায়িত্বরত) এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, কিছু কোচের ছাদ চুইয়ে পানি ঝরছে। এতে যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি তিনি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-পূর্ব) প্রকৌশলী সুবক্তগীনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, কেউ তাকে জানায়নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে যাত্রীদের স্বার্থে এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।