জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৮২২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস
জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৮২২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস

আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল ৫০০ রানের ইনিংস ছুঁতে না পারলেও ঘরোয়া বা লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে পাঁচশোর্ধ্ব রানের নজির আগেই দেখা গেছে। যেমন ২০২৩ সালে ভারতের বিজয় হাজরে ট্রফিতে অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৫৭৪ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল বিহার। তবে এবার সেই রেকর্ডকে বহুদূরে ফেলে দিয়ে এক ইনিংসে ৮২২ রান করার এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে। যদিও এই টুর্নামেন্টটির লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের অফিশিয়াল মর্যাদা নেই, তবুও রানের এই বিশাল পাহাড় ক্রিকেট দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ম্যাচের বিবরণ

জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া লিগের একটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব ও মিথেন লায়ন্স। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮২২ রানের এক দানবীয় পুঁজি সংগ্রহ করে। পাহাড়সম এই রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিথেন লায়ন্সের ব্যাটাররা ন্যূনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি। স্করপিয়ন্সের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে তারা মাত্র ২৮ রানেই গুটিয়ে যায়। এর ফলে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব ৭৯৪ রানের এক ঐতিহাসিক ও রেকর্ড ব্যবধানে জয়লাভ করে।

রেকর্ড গড়ার নায়করা

স্করপিয়ন্সের এই অবিশ্বাস্য স্কোর গড়ার মূল কারিগর ছিলেন দলের দুই ওপেনার তাকুন্ডা মাদেম্বো এবং উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংসের শুরু থেকেই বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে তাকুন্ডা মাদেম্বো মাত্র ১৪৩ বলে ৩০২ রানের একটি মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ৫০টি চার এবং ৭টি ছক্কায়। অন্যদিকে তাঁর ওপেনিং সঙ্গী উইনফেড মাতেন্ডেও কম যাননি, তিনি মাত্র ৭৫ বল খেলে ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কার সাহায্যে ২০৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। এছাড়া তিন নম্বরে খেলতে নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ৭৮ রান করেন এবং মিডল অর্ডারে গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বলে ১১০ রানের একটি ঝড়ো শতরান করে অপরাজিত থাকেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিচের ভিন্নতা

ম্যাচের শুরুতে পিচের আচরণ দেখে মনে হয়েছিল এটি বোলারদের জন্য এক বধ্যভূমি এবং ব্যাটাররা সহজেই ইচ্ছামতো রান তুলতে পারবেন, যার প্রমাণ স্করপিয়ন্সের ব্যাটাররা হাতেনাতে দিয়েছেন। তবে খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্রপট পুরোপুরি বদলে যায় এবং সেই একই পিচ মিথেন লায়ন্সের ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। স্করপিয়ন্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মিথেনের কোনো ব্যাটারই ক্রিজে টিকতে পারেননি এবং একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলটির ইনিংস মাত্র ২৮ রানেই থমকে যায়।