রাজশাহীর তরুণ বক্সার সাব্বির হত্যা মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি
বক্সার সাব্বির হত্যা মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

রাজশাহীর তরুণ বক্সার সাব্বির হত্যা মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

রাজশাহীর তরুণ বক্সার মো. সাব্বির (২১) হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি রবিউল ইসলাম জাসন (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতের কার্যক্রম

মহানগরীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অভিযুক্ত জাসন পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জবানবন্দি দেন।

হত্যার পেছনের কারণ ও পটভূমি

ঘটনার পেছনে জমি কেনার বিরোধকে দায়ী করা হচ্ছে। জানা যায়, জাসনের মা শিরিন বেগম তার আধা কাঠা জমি নিহত সাব্বিরের বাবা শাহিন ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। এই জমি কেনার কারণে সাব্বির ও তার বাবা শাহিনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন জাসন। গত মঙ্গলবার তিনি শাহিনকে মারধর করেন। পরদিন বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে গিয়ে সাব্বিরকে পেয়ে বুকে ছুরি মেরে পালিয়ে যান, যার ফলে সাব্বিরের মৃত্যু হয়।

আসামি ও নিহতের পরিচয়

তরুণ বক্সার সাব্বিরের বাড়ি মহানগরীর শাহ মখদুম থানার পবা মিলপাড়ায়। তার বাবার নাম শাহিন ইসলাম। অভিযুক্ত জাসনের বাড়িও একই এলাকায় এবং তার বাবার নাম আমিরুল ইসলাম। উল্লেখ্য, জাসনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধপ্রবণতা নির্দেশ করে।

গ্রেফতার ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

হত্যার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত জাসন আটক না হলে এলাকাবাসী তীব্র বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সপুরা টিটিসি এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিন জাসনের বাড়ির জিনিসপত্র বাইরে বের করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে নগরের মিজানের মোড় ডগারহাট এলাকা থেকে জাসনকে গ্রেফতার করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল এই অভিযান চালায়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

ওসি ফারুক হোসেন আরও জানান, সাব্বির খুনের ঘটনায় রাতে তার বাবা শাহিন বাদী হয়ে মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আদালতের স্বীকারোক্তির পর এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ড রাজশাহী অঞ্চলে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।