বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের শুভ সূচনা
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব সাংগ্রাই শুরু হয়েছে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সোমবার সকালে রাজার মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে।
বহু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ
বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এই শোভাযাত্রায় যোগ দেন। মারমা নৃত্য ও গানের মাধ্যমে তারা বিদায় জানায় পুরনো বছরকে এবং স্বাগত জানায় নতুন বছরকে। এতে পুরো জেলা জুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য
সাংগ্রাই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য সাচিং প্রুয়ে জেরি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চো থুই প্রুয়ে, সাধারণ সম্পাদক থুই মং প্রুয়ে, প্রিন্স চাসিং প্রুয়ে বনি সহ সরকারি কর্মকর্তা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
সংসদ সদস্য সাচিং প্রুয়ে জেরি তার বক্তব্যে পার্বত্য জেলার উন্নয়নে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন এবং বান্দরবানে সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
সপ্তাহব্যাপী উৎসবে থাকবে নানা আয়োজন
আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। শোভাযাত্রার পর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট হলে একটি পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠদের উপহার ও ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উৎসবের অংশ হিসেবে ১৪ এপ্রিল সংগু নদীর তীরে বুদ্ধ মূর্তির স্নান অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব এবং ১৫ এপ্রিল রাজার মাঠে মৈত্রী জল ঢালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
উৎসবের মূল উদ্দেশ্য সম্প্রীতি রক্ষা
সাংগ্রাই উৎসব শুধুমাত্র মারমা সম্প্রদায়ের নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করার একটি মাধ্যম। এই উৎসবের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং প্রচারেরও সুযোগ তৈরি হয়।
বান্দরবানের স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন যে সাংগ্রাই উৎসবের এই আয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।



