কুষ্টিয়ায় এসএসসি ২০০১ ব্যাচের ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে মেতেছিলেন শিক্ষার্থীরা
কুষ্টিয়ায় এসএসসি ২০০১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে মেতে ওঠেন। গতকাল রোববার কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই বর্ণিল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সময়ের ব্যবধানে একে একে কেটে গেছে ২৫টি বছর। হয়তো কারও সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হতো বা কথা হতো, কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে সবাই একসঙ্গে জড়ো হওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার ২৫ বছর পর তাঁরা আবারও একত্রিত হয়ে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও খুনসুটিতে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
জিপিএ পদ্ধতির প্রথম ব্যাচের ঐতিহাসিক পুনর্মিলনী
তাঁরা সবাই ২০০১ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী, যারা দেশের ইতিহাসে জিপিএ পদ্ধতিতে প্রথম ব্যাচ হিসেবে পরিচিত। বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী এই ২৫ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপনে অংশ নেন। গতকাল রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনভর নানা আয়োজন চলে। ‘বন্ধুত্বের ২৫ বছর স্মৃতিতে আমরা, হৃদয়ে বন্ধুত্ব’ স্লোগানে উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়ে।
সারা দিন বন্ধুদের উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মুখরিত ছিল পরিবেশ। হইহুল্লোড়, বর্ণিল শোভাযাত্রা, কেক কাটা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ২৫ বছর পূর্তি উৎসব সফলভাবে উদযাপিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আয়োজনে বন্ধুদের পরিবারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য সাতজন শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আবেগঘন মুহূর্ত
দিনের শুরুতে সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শিক্ষার্থীরা হাতে নানা ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ফিরে আসে শোভাযাত্রাটি। এরপর সেখানে ফটোফ্রেমে ছবি তোলা এবং নিজের মুঠোফোনে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলায় মত্ত হয়ে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।
পুরোনো অনেক বন্ধু ফিরে যান সেই ২৫ বছর আগের স্মৃতিতে। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চিনতে কিছুটা দেরি হলেও গল্পে গল্পে পুরোনো কথা আর স্মৃতিতে হারিয়ে যান তাঁরা। এই মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী এবং স্মরণীয়।
বিনোদন ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠান
শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ২০০১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদী হাসানের সঞ্চালনায় বন্ধুদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, ফ্যাশন শো, মেয়েবন্ধুদের চেয়ারে বসা এবং সব বন্ধুর বালিশখেলা বেশ আনন্দদায়ক ছিল। দুপুরের পর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, বালিকা বিদ্যালয়, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন স্কুলের সাতজন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
তাঁদের হাতে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সম্মানিত শিক্ষকরা হলেন:
- ইলা রানী সাহা
- মঈনউদ্দীন আহমেদ
- স্বপন কুমার মালাকার
- আতিয়ার রহমান
- খোদেজা বেগম
- আবদুল হান্নান
- ইব্রাহীম হোসেন
আতিয়ার রহমান বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাকো, যে অবস্থানেই থাকো, ভালো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করো। দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করো।’
শিক্ষার্থীদের আবেগ ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ
শাম্মী আক্তার নামে ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এত দিন পর সবাইকে কাছে পেয়ে পুরোনো দিনে আবার হারিয়ে গেলাম। কত সুন্দর ছিল সেই সোনালি স্মৃতি! স্মৃতিগুলো বহন করব আমৃত্যু। এটা আমাকে কখনো কাঁদাবে, কখনো হাসাবে। এটা অমূল্য এক সম্পদ।’
বিকেলে শিল্পকলার মুক্তমঞ্চের সামনে এক মণ ওজনের একটি বিশাল কেক কেটে হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। দেশের বাইরে থাকা কয়েকজন বন্ধুর ভিডিও বার্তা দেখানো হয় মঞ্চের স্ক্রিনে। মজার মজার কথার ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুরা মঞ্চে নাচ–গান পরিবেশন করেন। সন্ধ্যার পর শিল্পী প্রিন্স ও সাব্বির কোরাইশী গান পরিবেশন করেন। রাত ১০টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এই উৎসব শুধুমাত্র একটি পুনর্মিলনী নয়, বরং বন্ধুত্বের অমূল্য বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের এই সোনালি অধ্যায়কে স্মরণ করে আনন্দে ভাসলেন এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে অনুপ্রাণিত হলেন।



