পুরান ঢাকায় উৎসবমুখর ঈদ আনন্দ র্যালী: ব্যাডমিন্টন ওস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা
ঈদুল ফিতরের পরদিন সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর পুরান ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ঈদ আনন্দ মিছিল ও র্যালী’। হাজারীবাগের ঈমান আলী রোডে ফাতেমা ল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালীতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ, যারা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন এবং নানান রকম সাজে সজ্জিত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজক ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি
প্রতি বছরের মতো এবারও এই আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাবাসী সংগঠন ও ফ্রেন্ডস ক্লাব অব লস্ এঞ্জেলেস। আয়োজকরা জানান, এবারের র্যালী বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়েছে কিংবদন্তী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় আমিনুল ইসলাম ওস্তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ফ্রেন্ডস ক্লাব অব লস্ এঞ্জেলেসের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রীড়া সংগঠক সাইফুল আলম বাবু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন জাকারিউল ইসলাম স্বপন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন কানাডা প্রবাসী সাবেক কমনওয়েলথ ইয়ুথ প্রোগ্রাম এম্বেসেডর হাসান জামান এবং সমাজসেবক মুহাম্মদ নূরুস সাবা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাবাসী সংগঠনের মহানগর কমিটির আহ্বায়ক লুৎফুর আহসান বাবু, মহাসচিব শেখ খোদা বক্স, উপদেষ্টা আজফারুজ্জামান সোহরাব এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাকির সালেক। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শুকুর সালেক ও কানাডা প্রবাসী নুরুল ইসলাম।
ঐতিহ্য রক্ষা ও সামাজিক বন্ধন
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ঈদ আনন্দ র্যালী পুরনো ও নতুন ঢাকার মানুষের মধ্যে এক মিলনমেলা তৈরি করেছে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। তারা আরও বলেন, হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজনটি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ঢাকাবাসী সংগঠন এই ঈদ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে আসছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
র্যালীতে অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র উৎসবই নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর প্রদর্শনীও করেছেন, যা পুরান ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাসকে ফুটিয়ে তুলেছে। এই আয়োজনটি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে কাজ করে, যা নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সাথে যুক্ত রাখতে সাহায্য করছে।



