নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে মহাষ্টমী স্নানোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দে আদি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বুধবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকাল থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব 'মহাষ্টমী স্নানোৎসব'। পাপমুক্তির আশায় দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় ইতোমধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর। আয়োজক কমিটি ও পঞ্জিকা সূত্রে জানা গেছে, এবার স্নান শুরু হবে বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং শেষ হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে।
প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি
উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ১৮টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কক্ষ ও ১০০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
প্রায় ১০ বছর আগে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার গুজবে পদদলিত হয়ে ১০ তীর্থ যাত্রীর মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, পুলিশ, আনসার ও র্যাবের সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নদীতে নৌ-পুলিশ এবং সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
বিদেশি পুণ্যার্থীদের আগমন
লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে পুণ্যার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েক হাজার বিদেশি পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্রের এই পবিত্র সলিলে অবগাহন করতে ইতোমধ্যে লাঙ্গলবন্দে পৌঁছেছেন।
উৎসবের আমেজ ও মেলা
স্নান উপলক্ষে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা, যা উৎসবের জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এছাড়া সাধু সন্তের ভাব সংগীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে তীর্থ স্থান লাঙ্গলবন্দ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সম্প্রীতিরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উৎসবটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র নদের পবিত্র জলে স্নান করে আত্মশুদ্ধি ও মোক্ষ লাভের আশা করেন। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন ও আয়োজক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এবারের উৎসবটি আরও সুসংগঠিত ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



