রাজশাহীর বাঘায় শুরু হলো ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক ঈদ মেলা
রাজশাহীর বাঘায় ঈদুল ফিতরের দিন থেকে শুরু হয়েছে ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মেলার ইজারা নেওয়া হয়েছে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। বাঘা শাহদৌলা কলেজ মাঠ, মডেল হাইস্কুল মাঠ, ঈদগাহ মাঠ ও মাজার চত্বরজুড়ে বিস্তৃত এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছেন।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ ও পণ্যের সমাহার
ঈদের নামাজ শেষে লাখো মানুষ মেলায় যোগ দিতে শুরু করেন। হাজারো ব্যবসায়ী পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলার বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে সার্কাস, যাত্রাপালা, নাগরদোলা এবং মোটরসাইকেল ও কার ঘোরানোর খেলা। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে মিষ্টি, শিশুদের খেলনা, মনোহারি সামগ্রী, লোহাজাত দ্রব্য, কাঠের আসবাবপত্র, মাটির তৈজসপত্র, প্রসাধনী, বেকারি পণ্য, শামুকের মালা, বেলুন ও বাঁশিসহ নানা পণ্য। এ ছাড়া রয়েছে খাবার হোটেল, চা-পানের স্টলসহ বিচিত্র সব দোকান।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও ধর্মীয় তাৎপর্য
মেলার আয়োজকরা জানান, প্রায় ৫০০ বছর আগে ১৫২৩-২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন হুসেন শাহের পুত্র সুলতান নুসরাত শাহ, হযরত আব্বাসী এবং তার বংশধর হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (র.), তার পুত্র হযরত আবদুল হামিদ দানিশমন্দ (র.) এবং জহর খাকীসহ পাঁচজন সঙ্গী ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পদ্মা নদীর তীরবর্তী বাঘায় বসবাস শুরু করেন। তাদের চরিত্র, ব্যবহার ও আত্মিক শক্তিতে আকৃষ্ট হয়ে এলাকার বহু মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাদের স্মরণে ওরশকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন থেকে বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের বিশাল এলাকাজুড়ে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত বাঘা শাহী মসজিদের উত্তর প্রবেশপথের বাম দিকে হযরত শাহদৌলা (র.)-এর মাজার অবস্থিত। ঈদের তৃতীয় দিন ওরশ অনুষ্ঠিত হয় এবং জোহরের নামাজের পর তবারক বিতরণ করা হয়। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত হলেও সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষ এই মেলায় অংশ নেন।
ইজারা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
১০ লাখ টাকার জামানতের বিপরীতে মেলার ইজারায় অংশ নেন এলাকার ৭৬ জন ব্যবসায়ী। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৫টি শর্তে দুই সপ্তাহের জন্য ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন বাঘা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব শফিউর রহমান শফি। মেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, ‘সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’



