ঈদের দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উৎসবমুখর উপস্থিতি
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গনে হাজির হয়েছেন, যা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রাণীদর্শনে শৈশবের স্মৃতিতে মাতোয়ারা দর্শনার্থীরা
চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, জলহস্তি, গন্ডার, বানর, হাতি এবং জিরাফসহ ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজারেরও বেশি পশু-পাখি দেখে অনেক দর্শনার্থী যেন শৈশবে ফিরে গেছেন। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও প্রাণীদের কাণ্ডকারখানা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছেন। সিংহের খাঁচার সামনে উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না, আর হরিণ ও জিরাফের দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে।
দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর আজিমপুর থেকে আসা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে খোলা জায়গায় আসতে চেয়েছিলাম। বাচ্চারা বাঘ, সিংহ আর নানা রকমের পাখি দেখে খুব খুশি, আর বৃষ্টির জন্য আবহাওয়াটাও চমৎকার হয়েছে।’ ধানমন্ডি থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে আসা চাকরিজীবী রফিক আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘ছোট মেয়ে ভালো রেজাল্ট করায় তাকে চিড়িয়াখানা নিয়ে এসেছি, মেয়েরা বিশেষ করে সাপ দেখে মুগ্ধ হয়েছে।’
কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুসহ সব বয়সী দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, শনিবার দিনে প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী ঘুরে বেড়াবেন, এবং রোববার (২২ মার্চ) ও সোমবার (২৩ মার্চ) এই সংখ্যা আরও বাড়বে। ঈদের লম্বা ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে জাতীয় চিড়িয়াখানা বরাবরের মতোই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর ভিড় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, যা চিড়িয়াখানার প্রাণীবৈচিত্র্য ও পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, এবারের ঈদ উদযাপন হচ্ছে মন খুলে, আর চিড়িয়াখানার এই সমাগম সেই আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে।



