জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক ঈদ জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে নামাজ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়ে সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় পর একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।
নামাজে অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই ঈদ জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নামাজ শেষে সবাই দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন, যেখানে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি সারাবিশ্বে ফিৎনা-ফ্যাসাদ বন্ধের প্রার্থনা জানানো হয়।
ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির আভাস থাকলেও রাজধানীর আকাশ মেঘলা ছিল এবং জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করেন। সকাল ৭টায় দেখা যায়, সারিবদ্ধ হয়ে মানুষ ময়দানে প্রবেশ করছেন। প্রবেশের সময় আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে কঠোর তল্লাশি করা হয়। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়েছিল।
নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের বিশদ বিবরণ
জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্ট—মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় রোড ব্যারিকেড রাখা হয়, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ময়দানের চারপাশে পুলিশের টহল ও অবস্থান ছিল। নামাজের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জাতীয় ঈদগাহ পরিপূর্ণ হয়ে যায়, ফলে ময়দানে জায়গা না পেয়ে অনেকে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন।
এবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। নারীদের জন্যও আলাদা নামাজ আদায়ের সুযোগ ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য জামাত
নয় মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা স্থানে যুদ্ধ চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্বের অন্যসব স্থানের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও সংকটের ঝুঁকিতে ফেলেছে। তার মধ্যেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ এসেছে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবার পর মোনাজাত করা হয়, যেখানে বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত সেখানে আরো চারটি ঈদ জামাত হবে। রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহ ও পাড়া-মহল্লার জামে মসজিদগুলোতে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



