ঈদুল ফিতর কবে? সৌদি আরবে শুক্রবার, বাংলাদেশে শনিবার হওয়ার সম্ভাবনা
ঈদুল ফিতর: সৌদিতে শুক্রবার, বাংলাদেশে শনিবার সম্ভাবনা

ঈদুল ফিতরের তারিখ নিয়ে জল্পনা: সৌদি আরবে শুক্রবার, বাংলাদেশে শনিবার

এক মাসের সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকেই রাজধানী ছেড়ে মানুষজন প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে, দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও এখনও সবার মনে একটাই প্রশ্ন জাগছে—ঈদ আসলে কবে হবে?

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস: সৌদি আরবে শুক্রবার ঈদ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আগামী ২০ মার্চ, শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) আরব বিশ্বের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে শুক্রবার সেখানে ঈদের দিন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় নাগরিকদের চাঁদ দেখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে, যা তারিখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ: শনিবার

ভৌগোলিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পর বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে আগামী ২১ মার্চ, শনিবার। তবে এই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ), রমজানের ২৯তম দিনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপিত হবে। অন্যথায়, রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হয়ে শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে।

ঈদ যাত্রায় মানুষের ঢল: বন্দর ও টার্মিনালে ভিড়

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দর ও বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হওয়ায় মানুষজন যানজট উপেক্ষা করেই আপন ঠিকানায় ছুটছে। আবহাওয়া অফিস ঝড়ের পূর্বাভাস দিলেও স্বজনদের কাছে ফেরার আনন্দে কোনো খামতি নেই, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সর্বোপরি, ঈদুল ফিতরের সঠিক তারিখ এখনও অনিশ্চিত, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস ও চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আনন্দই নয়, বরং প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশজুড়ে এক অপার উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।