নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবের আয়োজন, সংস্কৃতি চর্চায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
নর্থ সাউথে পিঠা উৎসব, সংস্কৃতি চর্চায় শিক্ষার্থীরা

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসবের মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য উদযাপন

বসন্তের মৌসুমে বাংলার উৎসবমুখর পরিবেশে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'পিঠা উৎসব ১৪৩২'। বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাবের উদ্যোগে এই আয়োজনটি গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রঙ্গিন ও দেশীয় সাজসজ্জায় অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে স্টল স্থাপন করে, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। এই পিঠার প্রদর্শনী ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এছাড়াও, ক্লাবের উদ্যোগে পুরো মাঠ বর্ণীল সজ্জায় সাজানো হয়, যেখানে নানান ঐতিহ্যবাহী সজ্জা ও বাংলার গ্রামীণ আবহ তৈরি করা হয়। চারিপাশ রমরম করে তোলে এই সাংস্কৃতিক পরিবেশ, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আজিজ আল কায়সার, সম্মানিত চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খালিদ বিন মোর্শেদ রামিম বলেন, 'পিঠা বাঙালী সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ। এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ক্লাবের এই আয়োজন।' তিনি পিঠা উৎসবকে ঘিরে ক্লাবের উৎসাহ ও প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করেন।

ক্লাবের ফ্যাকাল্টি এডভাইজার জনাব মেজবাহ উল হাসান চৌধুরী যোগ করেন, 'সমাজ সেবার পাশাপাশি, জাতির ঐতিহ্য রক্ষাও আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা বিশেষভাবে এই পিঠা উৎসব আয়োজন করে থাকি।'

সফল আয়োজন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এবারের পিঠা উৎসব ক্লাবের সকল প্রচেষ্টা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরো বর্ণিল ও আনন্দময় হয়ে উঠে। এই আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি নিয়মিতভাবে এই ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করে আসছে, যা শিক্ষার্থীদের বহুমুখী বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।