আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনারের মূল বেদীসহ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং রং করার কাজ শুরু হয়েছে।
মূল মিনারের রূপান্তর ও সাজসজ্জা
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিনে শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে, যা দিবসটির পবিত্রতা ও মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করছে।
এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকি লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে। এই লাল সূর্য ভাষা আন্দোলনের গৌরব ও শহীদদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে দাঁড়াবে।
শিক্ষার্থীদের মতামত ও অতিরিক্ত প্রস্তুতি
শহীদ মিনারে অবস্থানরত লালবাগ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শহীদ মিনার বছরে একবার পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু এই জায়গা অন্তত প্রতিমাসে একবার পরিষ্কার করা উচিত।” তার এই মন্তব্য স্থানটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি আলোকপাত করে।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্বলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। এই শৈল্পিক উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের মধ্যে ভাষার গুরুত্ব ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলো দিবসটির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পালন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শহীদ মিনারের এই প্রস্তুতিগুলো ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি উপযুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও আলোচনা সভার আয়োজনও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাংলা ভাষার গৌরবকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে।
