যুক্তরাজ্যে ঢাবি প্রাক্তনীদের বর্ণিল বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা
যুক্তরাজ্যে ঢাবি প্রাক্তনীদের বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা

ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের (DUAUK) উদ্যোগে গত ৯ মে পূর্ব লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে’ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ‘বর্ষবরণ ১৪৩৩–বৈশাখী মেলা ও ভর্তা উৎসব’ আয়োজন করা হয়। বর্ণিল এই আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে নাচ, গান, আবৃত্তি, ফ্যাশন শো ও আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

আয়োজনের সূচনা ও বক্তব্য

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও বিস্তারিত তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান। সিনিয়র সহসভাপতি ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মেসবাহ উদ্দিন ইকো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরসহ একটি নিবেদিতপ্রাণ টিম। সাংস্কৃতিক পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভা।

সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসান বলেন, “ব্যবসায়িক হালখাতা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, আর লোকজ গানবাজনার মধ্য দিয়ে এই দিনটি হয়ে ওঠে এক আনন্দঘন উৎসব। পয়লা বৈশাখ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাঙালির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা। এই উৎসব তাই শুধু উদযাপন নয়, এটি আমাদের পরিচয়ের এক গর্বিত প্রকাশ।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ সমবেতভাবে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন। মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করা হয়। গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করে শিশুশিল্পী শ্রেয়সী রাজভি ইসলাম। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আরও সংগীত পরিবেশন করে অকোপট বাংলা ব্যান্ড ইউকে (Ocopot Bangla Band UK)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহার্য ও ‘মাস্টার শেফ’ সম্মাননা

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। মুড়ি চানাচুর, চটপটি, পিঠা, পুলি, পায়েস, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, শর্ষে ইলিশ, বিরিয়ানি, সাদা ভাত, খিচুড়ি, ডাল—কোনো খাবারের কমতি ছিল না। ঘরে তৈরি সুস্বাদু খাবার সবাই তৃপ্তিসহকারে ভোজন করেন। ‘মাস্টার শেফ’ খেতাব প্রদান অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। ঘরে তৈরি খাবার প্রস্তুতকারী ৩৩ জন সদস্য এবং পরিবারকে সংগঠনের লোগোসংবলিত পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান এবং সমন্বয় করেন মেসবাহ উদ্দিন ইকো।

সম্মাননা পর্ব

উপদেষ্টাদের সংগঠনের জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে ডেকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন হাবিব রহমান (অনুপস্থিত), এস বি ফারুক, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী বাবর এবং সোহুল আহমেদ মকু। নতুন নিবন্ধিত সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়, তাঁরা হলেন রফিকুল ইসলাম (কম্পিউটার সায়েন্স), বিভা মোশাররফ (আইন), খালেদা জামান পূর্ণি (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), চৌধুরী রেজওয়ানা বাশার (মৃত্তিকাবিজ্ঞান) এবং ড. অধ্যাপক মশফিক উদ্দিন (ফাইন্যান্স), লিডস ইউনিভার্সিটি।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ‘বৈশাখী’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। স্মরণিকাটি স্পনসরদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশেষভাবে মাহফুজা রহমান স্মরণিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য স্পনসর এতে অংশগ্রহণ করেন। স্পনসরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন মাহফুজা রহমান, Advocacy for Green—সৈয়দ ইকবাল ও সৈয়দা তামান্না, LURIS VINCE Solicitors—নজির উদ্দিন চৌধুরী, Liberty Law Solicitors—সোহুল আহমেদ মকু এবং MQ Hassan Solicitors—এম কিউ হাসান।

সংগঠনের সাবেক নেতাদের বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়। সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুর রহমান (অনুপস্থিত), দেওয়ান গৌস সুলতান, মারুফ চৌধুরী ও প্রশান্ত পুরকায়স্থ BEM (অনুপস্থিত)-কে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মারুফ চৌধুরী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাকীব, ইসমাইল হোসেন ও মেসবাহ উদ্দিন ইকো-কেও সম্মাননা দেওয়া হয়। সাবেক কোষাধ্যক্ষ এম এ কালাম এবং সৈয়দ হামিদুল হক-কে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া ‘Slum in Mega City’ শীর্ষক গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি সম্পন্ন করায় সংগঠনের সদস্য ড. মুসফিকা আশরাফকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সমাপ্তি ও ধন্যবাদ

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজবাহ উদ্দিন ইকো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সব সদস্য, পরিবার, অতিথি, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, স্পনসর ও সংগঠকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। নববর্ষের কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে কারোরই বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল না। নববর্ষ উদযাপনের এই চমৎকার অনুষ্ঠানের রেশ দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ও সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন রীপা সুলতানা রাকীব, সৈয়দ জুবায়ের, তারেক সৈয়দ, নীলা নিকি খান, মেহেরুন আহমেদ মালা, এরিনা সিদ্দিকী, সৈয়াদা তামান্না, সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, হাবিব, সৈয়দা লাভলী চৌধুরী, দেওয়ান গৌস সুলতান, ইসমাইল হোসেন, মতিন চৌধুরী, সাবিতা শামসাদ, এম কিউ হাসান, মাহফুজা রহমান, মারুফ চৌধুরী, মেসবাহ উদ্দিন ইকো, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, সৈয়দ হামিদুল হক, সৈয়দ জাফর, এমদাদ তালুকদার, মিজানুর রহমান, হাসনীন চৌধুরী, বিভা মোশাররফ, মাহমুদা চৌধুরী, খালেদা জামান পূর্ণি, আসমা আক্তার, নুসরাত জাহান, শাকির আহমেদ, খাদিজা আহমেদ বন্যা, কংকন কান্তি ঘোষ, শিরিন উল্লাহ প্রমুখ।