সানস্ক্রিন কীভাবে কাজ করে? বিজ্ঞান সহজ ভাষায়
সানস্ক্রিন কীভাবে কাজ করে? বিজ্ঞান সহজ ভাষায়

অনেকে মনে করেন, সানস্ক্রিন কেবল কড়া রোদে বা গ্রীষ্মকালেই ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে সানস্ক্রিন অপরিহার্য। চলুন, সানস্ক্রিনের পেছনের বিজ্ঞানটি সহজভাবে জেনে নিই।

কেন রোদ ত্বকের ক্ষতি করে?

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা আলোতে দুই ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি থাকে: ইউভিএ এবং ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে, যা ত্বকের সজীবতা নষ্ট করে এবং অকাল বার্ধক্য সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে ফেলে, যাকে আমরা সানবার্ন বলি। দীর্ঘমেয়াদে এই রশ্মি ত্বকের ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে।

সানস্ক্রিনের প্রকারভেদ ও কাজের পদ্ধতি

বাজারে মূলত দুই ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়: ফিজিক্যাল সানব্লক এবং কেমিক্যাল সানস্ক্রিন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিজিক্যাল সানব্লক

এই ধরনের সানস্ক্রিনে জিংক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের মতো সাদা অজৈব কণা থাকে। এগুলো ত্বকের ওপর একটি অস্বচ্ছ প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা সূর্যের রশ্মিকে প্রতিফলিত করে। এই সানস্ক্রিন মাখলে মুখ কিছুটা সাদাটে দেখায়।

কেমিক্যাল সানস্ক্রিন

কেমিক্যাল সানস্ক্রিনে বিশেষ জৈব যৌগ থাকে, যেমন ফিনাইলবেনজিমিডাজল সালফোনিক অ্যাসিড। এটি স্পঞ্জের মতো কাজ করে—ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি শোষণ করে এবং তা তাপে রূপান্তরিত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। এই সানস্ক্রিন স্বচ্ছ হয় এবং মুখে সাদাটে ভাব ফেলে না।

এসপিএফ কী?

সানস্ক্রিনের গায়ে ‘এসপিএফ’ লেখা থাকে, যার অর্থ সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। এটি নির্দেশ করে একটি সানস্ক্রিন কতটুকু ইউভিবি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এসপিএফ ৩০ মানে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক পোড়ার সময় ৩০ গুণ বেড়ে যায়। তবে মনে রাখবেন, এসপিএফ কেবল ইউভিবি রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, ইউভিএ নয়। তাই ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সঠিক ব্যবহারের নিয়ম

অনেকে ভাবেন মেঘলা দিনে বা শীতকালে সানস্ক্রিন লাগে না। কিন্তু অতিবেগুনি রশ্মির প্রায় ৮০ শতাংশ মেঘ ভেদ করে পৃথিবীতে আসে। তাই রোদ থাকুক বা না থাকুক, দিনের বেলা বাইরে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। ঘাম বা পানির সংস্পর্শে এলে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়, তাই প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগানো উচিত। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সানস্ক্রিন ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও স্কিন ক্যানসার ফাউন্ডেশন।