নারীদের কোমরব্যথা: কারণ, প্রতিকার ও করণীয়
নারীদের কোমরব্যথা: কারণ ও প্রতিকার

টানা একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা, বারবার ঝুঁকে কাজ করা এবং ভারী জিনিস ওঠানো-নামানোর কারণে কোমরব্যথা নারীদের একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে উৎসব-অনুষ্ঠানের পর এটি বেশি মাত্রায় দেখা দেয়। নারীদের দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে রান্না করতে হয়, বাসন ধোয়া, সবজি কাটাসহ অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ। এসব কাজের কারণে কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা থেকে ব্যথা শুরু হয়।

কোমরব্যথার প্রধান কারণ

কোমরব্যথার পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দীর্ঘক্ষণ একটানা দাঁড়িয়ে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা, নিচু হয়ে সবজি কাটা বা বাসন ধোয়া, ভারী হাঁড়ি-পাতিল তোলা, অতিরিক্ত ওজন, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব। অনেক সময় সন্তান জন্মের পর পেশি দুর্বল হয়ে গেলেও কোমর ব্যথা বাড়তে পারে।

রান্নাঘরের সিঙ্ক বা চুলার উচ্চতা যদি শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কোমরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। একইভাবে হঠাৎ ভারী কিছু তুললে বা দ্রুত মোচড় দিলে কোমরের মাংসপেশি ও লিগামেন্টে টান লাগতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কী করবেন

প্রথমেই কাজের ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে। দীর্ঘক্ষণ একভাবে না দাঁড়িয়ে থেকে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিতে হবে। নিচু হয়ে বা কোমর বাঁকিয়ে কাজ না করে টেবিল বা উঁচু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা ভালো, যাতে চেয়ারে বসে কাজ করা যায় কিংবা কোমর না বাঁকাতে হয়। ভারী জিনিস তোলার সময় হাঁটু ভাঁজ করে ধীরে তুলতে হবে। অনেক সময় অতিরিক্ত ওজনবিশিষ্ট হাঁড়ি-পাতিল একবারে না নামিয়ে ভাগ ভাগ করে হালকা করে নামানো যেতে পারে।

যদি ব্যথা বাড়ে, তবে হালকা গরম সেঁক কোমরব্যথা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত কোমরের ব্যায়াম, যেমন ব্যাক স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ, পেলভিক টিল্ট, ব্রিজিং এক্সারসাইজ এবং কোর স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ফিজিওথেরাপি কোমরব্যথার অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। এতে ব্যথা কমে, পেশি শক্তিশালী হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যথা ফিরে আসার ঝুঁকিও কমে। যদি ব্যথা দীর্ঘদিন থাকে, পায়ে ছড়িয়ে যায়, ঝিনঝিন করে বা হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এম ইয়াছিন আলী, ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।