সাতসুকির থাইল্যান্ড ভ্রমণ: মেনোপজ, মৃত্যুচিন্তা ও এক রহস্যময় গাইডের সাক্ষাৎ
সাতসুকির থাইল্যান্ড ভ্রমণ: মেনোপজ ও মৃত্যুচিন্তার গল্প

সাতসুকির থাইল্যান্ড ভ্রমণ: মেনোপজ, মৃত্যুচিন্তা ও এক রহস্যময় গাইডের সাক্ষাৎ

থাই বিমানের বিজনেস ক্লাসে বসে সাতসুকি হঠাৎ করেই প্রচণ্ড গরম অনুভব করে। বিমানবালার জাপানি উচ্চারণে বাতাসের ঝাপটার সতর্কতা শুনতে পায় সে, কিন্তু তার ভাবনার জগতে ডুবে থাকায় সময় লাগে বুঝতে। গা ঘেমে একাকার, নাইলনের মোজা ও ব্রা অস্বস্তিকর মনে হয়। চারপাশে অন্য যাত্রীরা কুঁকড়ে ঘুমোচ্ছে, কাঁধে কম্বল জড়িয়ে। শুধু সাতসুকিই একা গরমে কাহিল। ব্যাগ থেকে বই বের করে পড়তে চায়, কিন্তু গরমের কথা ভুলতে পারে না। পানি চেয়ে হরমোনের ওষুধ খায়, মেনোপজ নিয়ে চিন্তায় ডুবে যায়।

মেনোপজ ও মানবজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন

সাতসুকি বারবার ভাবে, মেনোপজ যেন দেবতাদের দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক সতর্কবার্তা। একশ বছর আগে গড় আয়ু পঞ্চাশের কম ছিল, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরও বেঁচে থাকা নারী বিরল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি কি সমস্যা সমাধান না করে উন্মোচিত করেছে? বিমানে ডাক্তার ডাকার ঘোষণা শুনে সে এগোতে চায়, কিন্তু পেশাদার চিকিৎসকদের সাথে আগের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা মনে পড়ায় পিছিয়ে আসে। তবু ভাবে, হয়তো সে-ই একমাত্র ডাক্তার, থাইরয়েডজনিত রোগীকে সাহায্য করতে পারে। কেবিন ক্রুকে ডাকার বোতাম চাপে।

ব্যাংকক কনফারেন্স ও অতীত স্মৃতি

ব্যাংককের ম্যারিয়টে ওয়ার্ল্ড থাইরয়েড কনফারেন্সে সাতসুকি অংশ নেয়। এটা থাইরয়েড বিশেষজ্ঞদের পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো। দিনে বক্তৃতা, রাতে ব্যক্তিগত পার্টি। সে ডেট্রয়েটে থাকার সময়ের বন্ধুদের সাথে সময় কাটায়। প্রায় দশ বছর ডেট্রয়েটের একটি হাসপাতালে থাইরয়েড গবেষণা করে। বিবাহবিচ্ছেদের পর জাপানে ফিরে আসে, কিন্তু ভারতীয় সহকর্মী তাকে আমেরিকায় থাকার অনুরোধ করে, নোবেল পুরস্কারের সম্ভাবনার কথা বলে। সাতসুকির সিদ্ধান্ত অটল, মনে হয় ভেতরটা ভেঙে পড়েছে।

নিমিতের সাথে সাক্ষাৎ ও রিসোর্ট ভ্রমণ

কনফারেন্স শেষে সাতসুকি ব্যাংককের কাছে একটি রিসোর্টে বিশ্রামের পরিকল্পনা করে। আমেরিকান বন্ধু জন র্যাপাপোর্টের সুপারিশে গাইড ও ড্রাইভার হিসেবে পায় নিমিতকে। ষাটের দশকের ছিপছিপে থাই পুরুষ, নেভি নীল মার্সিডিজ গাড়ি চালায়। নিমিতের ইংরেজি নিখুঁত, কোনো আঞ্চলিক টান নেই। ব্যাংককের যানজট পেরিয়ে তারা এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে। নিমিত জ্যাজ সংগীত বাজায়, সাতসুকির বাবার স্মৃতি জাগে। তার বাবা শিশুরোগবিশেষজ্ঞ ছিলেন, জ্যাজের জন্য পাগল। সাতসুকির স্বামী অপেরা পছন্দ করত, জ্যাজ সহ্য করতে পারত না।

রিসোর্টে বিশ্রাম ও নিমিতের গল্প

পাহাড়ের কোলের ব্যয়বহুল রিসোর্টে সাতসুকি কটেজে ওঠে। নিমিত তাকে একটি নিরিবিলি সুইমিংপুলে নিয়ে যায়, যেখানে একা সাঁতার কাটার ব্যবস্থা করে। পাঁচ দিন ধরে সে সাঁতার কাটে, সবজি-চিজের স্যান্ডউইচ খায়, বই পড়ে। নিমিতের সাথে কথোপকথনে জানা যায়, সে ৩৩ বছর একজন নরওয়েজীয় রত্ন ব্যবসায়ীর চালক ছিল, তার মৃত্যুর পর গাড়ি ও জ্যাজ টেপ পেয়েছে। নিমিত কখনো বিয়ে করেনি, নিজেকে অন্যজনের ছায়া বলে মনে করে।

গ্রামের বৃদ্ধা ও ভবিষ্যদ্বাণী

জাপানে ফেরার আগের দিন নিমিত সাতসুকিকে একটি দরিদ্র গ্রামে নিয়ে যায়। এক আশি বছরের বৃদ্ধার সাথে দেখা করে, যে মানুষের আত্মার চিকিৎসা করে। বৃদ্ধা সাতসুকির হাত ধরে বলে, তার শরীরে একটি সাদা পাথর আছে, জাপানি ভাষায় লেখা। তাকে একটি সবুজ সাপের স্বপ্ন দেখতে হবে, সাপটি পাথর গিলে ফেলবে। বৃদ্ধা আরও বলে, সাতসুকির স্বামী ভূমিকম্পে মারা যায়নি, এটা তার সৌভাগ্য। নিমিত অনুবাদ করে, সাতসুকিকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে বলে।

বিদায় ও অন্তর্দৃষ্টি

বিমানবন্দরে নিমিতের সাথে শেষ দেখা। সাতসুকি তাকে ১০০ ডলার উপহার দেয়। ক্যাফেতে বসে সে নিজের গোপন কথা বলতে চায়, কিন্তু নিমিত তাকে থামায়, স্বপ্ন দেখার পরামর্শ দেয়। নিমিত শ্বেতভালুকের গল্প বলে, যারা বছরে একবার মিলিত হয়, তারপর একাকী থাকে। বিমানে উঠে সাতসুকি ভাবে, নিমিতের কথা মনে পড়ে: "কথা শেষ পর্যন্ত পাথর হয়ে যায়।" সে চোখ বন্ধ করে, এরল গার্নারের গান শুনতে শুনতে স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকে।