সম্পত্তি বিরোধে ৩০ ঘণ্টা বাধার পর কুড়িগ্রামে বাবার লাশ দাফন
সম্পত্তি বিরোধে ৩০ ঘণ্টা বাধার পর বাবার লাশ দাফন

সম্পত্তি বিরোধে ৩০ ঘণ্টা বাধার পর কুড়িগ্রামে বাবার লাশ দাফন

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর লিখিত সমঝোতায় আজিজুর রহমানের (৭৫) লাশ দাফন করা হয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত

ঘটনায় জানা যায়, আজিজুর রহমান বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মারা যান। পরদিন বুধবার সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথম পক্ষ ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রথম পক্ষের সন্তান আবদুল হাকিম জানাজা ও লাশ দাফনে আপত্তি জানান।

দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

নাগেশ্বরী পৌর সভার সাবেক মেয়র আব্দুর রহমান বলেন, জীবদ্দশায় আজিজুর রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। দীর্ঘদিনে বিরোধ না মেটায় আজিজুর রহমানের মৃত্যুর পর প্রথম পক্ষের সন্তান আবদুল হাকিম লাশ দাফনে আপত্তি জানান।

স্থানীয়দের সালিশ ও সমঝোতা

দিনভর স্থানীয়রা দুই পক্ষকে নিয়ে কয়েক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জয়নাল আলী, আবদুল মালেক জানান, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়-বাড়িভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে।

পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনশ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় বাবার লাশ দাফনে ছেলে সম্মতি দেয়।

পুলিশের বক্তব্য

নাগেশ্বরী থানার ওসি আবদুল্লাহ হিল জামাল জানান, এই ঘটনা আগে কেউ জানায়নি। মীমাংসা ও লাশ দাফনের পর বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হই। অবশ্য এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।

এই ঘটনা সম্পত্তি বিরোধের জটিলতা এবং পারিবারিক সংঘাতের তীব্রতা তুলে ধরেছে, যা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে।