সুখী দম্পতিরা বাইরের স্বীকৃতির চিন্তা না করে বাস্তব মুহূর্তগুলো উপভোগে বেশি ব্যস্ত
দাম্পত্য জীবনের সম্পর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করলে যেন সম্পর্কটা ‘সত্যি’ হয় না—এমন ধারণা আজকাল অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে অনুসারী, সবাইকে নিজেদের ‘নিখুঁত জীবনযাপন’ দেখাতে চান অনেকে। কিন্তু গবেষকদের মতে, এর বিপরীত পথ যাঁরা বেছে নেন, সম্পর্কে তাঁরাই বেশি সুখী। এর প্রধান কারণ হলো, সুখী দম্পতিরা বাইরের লোকের স্বীকৃতির জন্য চিন্তা না করে বাস্তব মুহূর্তগুলো উপভোগে বেশি ব্যস্ত থাকেন।
সব সম্পর্ক একই রকম নয়: ব্যক্তিগত পছন্দের ভূমিকা
কেউ যেমন ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তেমনই কেউ আবার নীরবে–নিভৃতে বসে এক কাপ চা খেতে পছন্দ করেন। প্রতিটি সম্পর্কই আলাদা এবং পুরোটাই নির্ভর করে দুই প্রান্তে থাকা ব্যক্তির ওপর। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে না চাইতেও চোখের সামনে চলে আসে হাজারো তথ্য ও গল্প। ফলে সম্পর্কের যে ধারণা এত দিন আমরা বহন করেছি, তা বদলে যেতে শুরু করেছে খুব দ্রুতই।
সেখান থেকেই মূলত শুরু হয় সম্পর্ককে ‘পারফেক্ট’ দেখানোর চিন্তা। লোকে দেখে কী বলবে, এমন ভাবনা জমতে থাকে মাথার ভেতরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন এক জায়গা, যেখানে সবাই নিজের সেরা অবস্থাটাই প্রকাশ করতে চান। যে কারণে গ্যালারির সেরা ছবিটাই স্থান পায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সে রকম।
ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখার গুরুত্ব
ফেসবুকে দেখলে সবার সম্পর্কই ভালো যাচ্ছে, ঘুরে বেড়াচ্ছেন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, কোনো চিন্তা ছাড়াই। ফলে মনের অজান্তেই অন্য দম্পতির সঙ্গে তুলনা চলে আসে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত না হলে এই চিন্তা মাথায় আসার অবকাশ এতটা থাকে না। ফলে এখানেই আসে ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখার কথা।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক যিনি নিজের কাছে রাখেন, তার সুফল সবচেয়ে বেশি পান তিনি নিজেই। কারণ, বাইরের মানুষ কী বলল না বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না; বরং নিজেদের মতো করে সুখী হতে পারেন তাঁরা। এ সময়ে এসে সবার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কেউ না কেউ থাকবেই, যিনি সামান্য খুঁত বের করে ফেলবেন আপনাদের সম্পর্কে, যা নিজের মনের মধ্যে উসখুস শুরু হবে আপনারই।
সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এবং সম্পর্কের উন্নতি
শুধু তা–ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর জন্য যখন উৎসুক হয়ে উঠবেন, তখন সম্পর্কে নিজেদের সময় দেওয়ার কথা অনেকটাই উবে যাবে মাথা থেকে। বরং সুন্দর একটা ছবি তোলা, বাকি সবাইকে দেখানোর কথাই ঘুরপাক খাবে মনে। সম্পর্ক যে আপনাদের দুজনের, একে অপরকে যে সময় দেওয়া প্রয়োজন, সেই চিন্তা ও উদ্যোগ কমতে থাকবে ধীরে ধীরে। আর সেখান থেকে শুরু হতে পারে টানাপোড়েন।
যদি উল্টো পথে হেঁটে নিজেদের সম্পর্ককে নিজেদের কাছে রাখেন, তবে বাড়তি কোনো চিন্তাই করতে হয় না; বরং নিজেদের মতো করে যেমন সময় কাটাতে পারবেন, তেমনই পারবেন নিজেদের সম্পর্কের উন্নতি করতে। তখন বাইরের মানুষ কে কী ভাবছে, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রশ্নই আসবে না। নিজেদের একান্ত সময়গুলো উপভোগ করতে পারবেন অনায়াসে।
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
নিজেদের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো ভুল বা অপরাধ নয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন উল্টো আপনার সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে না পারে। কারণ, মানুষের চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণা আপনি নির্ধারণ করেন না। তাঁদের বাজে চিন্তা বা মন্তব্যের প্রভাব যদি আপনার ওপর পড়ে, তবে দিন শেষে ক্ষতিটা আপনাদেরই। তাই সচেতনভাবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত জীবনকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
সূত্র: ম্যারেজ ডটকম ও মিডিয়াম থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
