বৃষ্টিমুখর দিনে দীপু: একটি অকথিত ভালোবাসার গল্পের সেতু
বৃষ্টিমুখর দিনে দীপু: অকথিত ভালোবাসার গল্প

বৃষ্টিমুখর দিনে দীপু: একটি অকথিত ভালোবাসার গল্পের সেতু

বৃষ্টিমুখর দিনের ছবি মনে পড়লে আজও দীপুর কথা ভেসে ওঠে। দীপু, যাকে আমরা বন্ধুমহলে দীপু বলে ডাকতাম, সে ছিল আমাদের সবার বান্ধবী। তার কথাবার্তা ও আচরণ থেকে বোঝা যেত, সে একজন খুবই বাস্তববাদী মানুষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দীপুকে নিয়ে অনেকেই অবাস্তব কল্পনায় ডুবে থাকত। তার সঙ্গে কথা বলার নানা অজুহাত খুঁজে বেড়াত অনেকে। কেউ কেউ হয়তো সুযোগ পেয়েও যেত কথা বলার, তারপর নানা রকম গল্প বানিয়ে আমাদের শোনাত।

একটি অপ্রত্যাশিত কথোপকথনের সূচনা

আমাকে কিন্তু তেমন অজুহাত খুঁজতে হয়নি। আমার স্বভাবের কারণেই কি না, জানি না, একদিন দীপু নিজেই আমার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এল। সেদিন আমার মনে ফাগুন দিনের মতো ফুল ফুটতে লাগল। বন্ধুরা আমার পিছু ছাড়ল না। তাদের বানিয়ে তোলা গল্প শুনতে শুনতে আমিও কেমন যেন হয়ে উঠলাম। কথায় বলে, ‘দশচক্রে ভগবান ভূত।’ আমাকেও যেন ভূতে পেয়ে বসল। দীপু তখন আমার ভেতরে-বাইরে আলাদা একটা সেতু তৈরি করল। ভাবছিলাম, কথাটা বলেই ফেলব।

বৃষ্টির দিনে একটি ফোন কল

এর মধ্যেই এক তুমুল বৃষ্টির দিনে দীপু আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করল, ‘কোথায়?’ আমি উত্তর দিলাম, ‘হলে। একটু পর ক্যাম্পাসে যাব।’ দীপু বলল, ‘আমাকে একটা ছাতা জোগাড় করে দিতে পারবে? বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসে আটকা পড়েছি।’ আমি একটা ছাতা জোগাড় করে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পাসের দিকে যেতে থাকি। এইটুকু পথেই কত গল্প জমা হয় মনে!

ছাতা ও একটি অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তি

ছাতাটি দীপুর হাতে দিতেই তার সে কী উচ্ছ্বাস! একফাঁকে সে বলল, ‘তোমাকে বলাই হয়নি, আমার বন্ধু আনাম এসেছে। ওকেই রিসিভ করতে যাচ্ছি। ওর সঙ্গে আমার তিন বছরের অ্যাফেয়ার।’ আমি কিছু বলতে পারলাম না। দীপু হেসে বলল, ‘তোমার জীবনেও এমন কেউ আসুক, বলুক, চলো বৃষ্টিতে ভিজি,’ এই কথা বলে চলে গেল।

অশ্রু ও একাকী হাঁটা

আমি ভিজলাম। চোখের কোণে কয়েক ফোঁটা অশ্রু আড়াল করল এই বৃষ্টি। চার্লি চ্যাপলিনের কথা মনে পড়ল, ‘আমি বৃষ্টিতে হাঁটি, যাতে কেউ আমার অশ্রু দেখতে না পারে।’ আমিও হাঁটলাম। মনে হলো, এ পথ ফুরানোর নয়। তারপর বন্ধুরা কত দিন জানতে চেয়েছে, সেদিন দীপু আসলে কী বলতে এসেছিল। আমি কিছুই বলতে পারি না। আমি বলতে পারব না। নোটের মতো সামান্য জিনিসের কথা কি বলা যায়!