বাঁশি তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প: যতীন্দ্র বিশ্বাস ও পরিবারের হাতে তৈরি সুরের যন্ত্র
বাঁশি তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প: যতীন্দ্র বিশ্বাসের হাতের কাজ

বাঁশি তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প: যতীন্দ্র বিশ্বাস ও পরিবারের হাতে তৈরি সুরের যন্ত্র

বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাঁশি, যা সুরেলা সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যতীন্দ্র বিশ্বাস ও তাঁর পরিবার। তাঁরা বাঁশি তৈরির পুরনো পদ্ধতি অনুসরণ করে, হাতে তৈরি সুরের যন্ত্র তৈরি করছেন, যা শুধু সুরই নয়, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বাঁশি তৈরির ধাপগুলো

বাঁশি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রতিটি ধাপে সতর্কতা ও দক্ষতা প্রয়োজন। প্রথমে, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস বাঁশির গায়ে ছিদ্র করার জন্য পেনসিল দিয়ে বাঁশে দাগ কাটেন, যা সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করে। এরপর, যতীন্দ্র বিশ্বাস বাঁশির মুখে সুরের জন্য একধরনের কাঠ বসান, যা বাঁশির সুরকে আরও মধুর করে তোলে।

বাঁশি তৈরির জন্য বাঁশকে টুকরা টুকরা করে নির্দিষ্ট পরিমাপে কেটে নেওয়া হয়, যাতে প্রতিটি বাঁশি সঠিক আকার পায়। যতীন্দ্র বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী রীনা বিশ্বাস আগুনে লোহার রড পুড়িয়ে, পোড়া রড দিয়ে সুরের জন্য বাঁশির গা ছিদ্র করেন, যা একটি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুর তোলা ও শুকানো

বাঁশি তৈরির পর, আবুল কাশেম সুর তুলে তুলে বাঁশি তৈরি করেন, যাতে প্রতিটি বাঁশির সুর নিখুঁত হয়। এছাড়া, আবুল হাশেম আগুনে পুড়ে নকশা তৈরি করেন, যা বাঁশিকে শিল্পকর্মে পরিণত করে। বাঁশি তৈরির ফাঁকে ফাঁকে শিল্পীরা দাবা খেলে নেন, যা তাদের কাজের মাঝে সাময়িক বিশ্রাম দেয়।

তৈরি করা বাঁশি বিক্রির জন্য বেঁধে রাখা হয় এবং বাঁশি বাড়ির উঠানে রোদে শুকানো হয়, যাতে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু একটি পণ্য তৈরি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক সমর্থনও যোগায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ