শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম: জুবাইদা রহমান
শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম: জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, মানসম্মত দিবাযত্নকেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাঁদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য

আজ সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

পরিদর্শন ও পরিসংখ্যান

এর আগে জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), বেলা ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিবাযত্নকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা

কর্মজীবী মায়েদের জন্য শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান জুবাইদা রহমান। বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শৈশবকালীন বিকাশের গুরুত্ব

মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

পরিচর্যাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

দিবাযত্নকেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁদের মানবিক ও কঠিন দায়িত্ব পালনের কারণে অসংখ্য কর্মজীবী মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। তিনি বলেন, দিবাযত্নকেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।

অন্যান্য বক্তব্য

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তাঁর শাসনামলে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিবাযত্নকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই। নিরাপদ পরিবেশে শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারাই দেশ গঠনের প্রধান শক্তিতে পরিণত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দিবাযত্নকেন্দ্র শুধু কর্মজীবী মায়ের জন্য নয়; বরং প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, এক দিনে ১০০টি দিবাযত্নকেন্দ্র চালু করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ জেড এম জাহিদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে মাত্র ছয়টি দিবাযত্নকেন্দ্র দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। বর্তমানে সেই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।