চুয়াডাঙ্গায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু, নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে মর্মান্তিক ঘটনা
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছরের শিশু রুফাইয়িতের জীবনাবসান হয়েছে। আজ শনিবার সকালে দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
শিশুটি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ঢোলমারী গ্রামের আসমান আলীর ছেলে রুফাইয়িত। সে তার মায়ের সঙ্গে গতকাল শুক্রবার বোয়ালমারী গ্রামে নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে বেড়াতে আসে। আজ সকাল ৯টার দিকে শিশুটি একটি প্লাস্টিকের ছোট বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাড়িতে না ফেরায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাঁরা বাড়ির পাশের একটি পুকুরে বাইসাইকেলটি ভাসতে দেখেন। পরবর্তীতে পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বজনেরা উদ্ধারের পর শিশুটির লাশ ঢোলমারী গ্রামে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানেই দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া
চারুলিয়া ক্যাম্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুর আলী মুঠোফোনে জানিয়েছেন, পুলিশকে না জানিয়ে মৃত শিশুটিকে মুজিবনগর উপজেলার ঢোলমারী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নানাবাড়ির লোকজন দাবি করছেন, শিশুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে। যেহেতু এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, তাই শিশুটির স্বজনদের অনুরোধ করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যেন তাঁরা দাফন করেন।
এ বিষয়ে চারুলিয়া ক্যাম্প থেকে পুলিশের একটি দলকে ঢোলমারী গ্রামে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, গ্রামীণ এলাকায় পুকুর ও জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের একা বাইরে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণেরও পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রা। শিশু রুফাইয়িতের মৃত্যু পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



