গজারিয়ায় ১৩ বছরের কিশোরী ধর্ষণ: প্রধান অভিযুক্ত সাজিদ গ্রেফতার
গজারিয়ায় ১৩ বছরের কিশোরী ধর্ষণ: সাজিদ গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাজিদকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাজিদ একই গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে।

মামলা ও গ্রেফতার

এর আগে ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মামলা দায়েরের পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে গজারিয়া থানা পুলিশ। আত্মগোপনে থাকা মূল অভিযুক্ত সাজিদকে ধরতে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালানো হয় এবং রাত ৩টার দিকে তাকে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অবস্থা

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা হতদরিদ্র এবং মানসিক প্রতিবন্ধী। স্থানীয় বাজারে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৭-৮ মাস আগে কিশোরীর মায়ের মৃত্যুর পর প্রতিবেশী মহিউদ্দিনের ছেলে সাজিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা বেঁচে না থাকার সুযোগ নিয়ে সাজিদ কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গর্ভধারণ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধা

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানায় সে অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কতিপয় মাতুব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের বাধা দেন। তারা আদালতের বাইরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তকে বাঁচাতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ওই প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে ঘটনাটি সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীর ভাইয়ের বক্তব্য

ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে সাজিদ জড়িত। তবে সে নিজেকে বাঁচাতে তার কয়েকজন বন্ধুর নাম জড়িয়ে বিষয়টিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মাতুব্বররা আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করায় এতদিন আমরা কিছু করিনি। কিন্তু তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

অভিযুক্তের অবস্থান ও পুলিশের বক্তব্য

অভিযুক্ত সাজিদের বক্তব্য জানতে তার বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকাল থেকেই সাজিদ আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ প্রধান বলেন, “বিষয়টা শুনেছি। ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় ভুক্তভোগীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।”

গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ভুক্তভোগীর ভাইয়ের দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় সোমবার রাত ৩টার দিকে আমরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাজিদকে গ্রেফতার করেছি। সকালে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”