মায়ের সঙ্গে কাটানো সুখের স্মৃতি: এক ছেলের গল্প
মায়ের সঙ্গে কাটানো সুখের স্মৃতি: এক ছেলের গল্প

আমি এবং আমার ছোট বোন মিলে বাবা-মা, দাদুসহ পাঁচজনের ছোট্ট সুখী পরিবার। ছোটকালে খুব দুষ্টু ছিলাম। বোন শান্ত স্বভাবের ছিল। আর আম্মু সংসারের কল্যাণে ব্যস্ত থাকতেন।

বাবার সেকেন্ড হোম

বাবা কর্মসূত্রে মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। ওটা বাবার সেকেন্ড হোম। আম্মুই ছিলেন সব। আমার শিশুকালের প্রথম শিক্ষাগুরু, শাসক ও ঘরের অভিভাবক। পরিবারের জিরো থেকে তিনি একাই লড়ে গেছেন। বাবা অতিথি পাখির মতো এসে মায়া জমিয়ে আবার ফিরে যেতেন।

আম্মুর বিশেষত্ব

আম্মুর কয়েকটি স্পেশাল দিক রয়েছে। আম্মুর হাতের রান্না অন্যদের চেয়ে একদম আলাদা। আম্মু সিজনাল বিভিন্ন পিঠা বানানোর ক্ষেত্রে ওস্তাদ। আম্মুর আবার ঐতিহ্য সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে রাখার মনমানসিকতাও রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শৈশবের স্মৃতি

সংসারের চাবি আম্মুর কাপড়ের আঁচলে সব সময় থাকে। বয়স তখন আঠারো আমার। কোনো একদিন পকেট বেশ ফাঁকা ছিল। সুযোগ বুঝে আম্মুর চাবিখানা চুরি করে আলমারি থেকে টাকা হাতিয়ে নিলাম। টাকা গুনতে গিয়ে আম্মু ভেবেছেন হিসাবের গোলমাল। তিনি আমাকে বললেন, বোধ হয় টাকাটা কোথাও হারিয়েছে। আমিও বললাম, ‘আপনার টাকা হারিয়ে গেছে? চলেন দুজনে খুঁজে দেখি।’ কিন্তু আসলে তো টাকা আমিই নিয়েছি!

ভারী বর্ষার ঘটনা

২০০৪ সালের ভারী বর্ষার মৌসুমে ঘরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আমার চোখের পাশে ফেটে অঝোরে রক্ত পড়ে। সেই ভারী বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে রাতেই আমাকে মেডিকেল নিয়ে যান আম্মু আর মামা।

অপারেশনের অভিজ্ঞতা

২০০৭–২০০৮ সালে আমার গলায় একটা অপারেশন হয়। বাবাকে বিদেশে খবর না দিয়ে ছোট্ট বোনটাকে ঘরে রেখে মামাকে নিয়েই চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে একা একা আম্মুই আমার অপারেশনের বন্দোবস্ত করেন। সেই সময়টা এখন গল্পের ফ্রেমে আবদ্ধ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান জীবন

মায়ের বয়স এখন পঞ্চাশের অধিক। বোনের বিয়ে হয়েছে। তাঁর একটা কন্যা আছে। বাবা এখন ব্যবসার কাজে বছরে ছয় মাস মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন, বাকি ছয় মাস আমাদের সঙ্গে। দাদু পনেরো সালে অনন্তকালের মহাযাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন। ঘরে এখন আমি আর আম্মু। একজন অন্যজনকে সহযোগিতা করে খুব সুন্দর জীবন কাটাচ্ছি মা-ছেলে। অতিথি পাখি বাবারও আসার সময় হয়েছে।

আম্মু আর আমি মিলে স্বাধীন সুখী পরিবার। কোনো এক ভারী বর্ষায় দুপুরে ডিম আর খিচুড়ি খেয়ে দুপুর কাটে ভালোবাসার বন্ধনে। সন্ধ্যাবেলায় আম্মুর হাতের পিঠা খেয়ে কেটে যায় আনন্দের সন্ধ্যা। রাতের ডিনার টেবিলের আড্ডায় মেতে ওঠে আমাদের মা–ছেলের সুখ–দুঃখ, অতীতের স্মৃতিমধুর গল্পসহ চমৎকার সব কথোপকথন।

শিক্ষার্থী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চিটাগাং