চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশে সারি সারি তালগাছ এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই বাঁধের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থানীয় লোকজন তালগাছ লাগান। এখন অনেক গাছে ফলন হচ্ছে, যা দৃশ্যটিকে মুগ্ধকর করে তুলেছে।
তালগাছের সংখ্যা ও বিতরণ
উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে এক হাজারের বেশি তালগাছের চারা বিতরণ করা হয়। বর্তমানে গাজীপুর থেকে ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ এলাকা ও বাঁধের ভেতরের উঁচু জমিতে প্রায় ৫ হাজার তালগাছ রয়েছে। পুরোনো গাছের সঙ্গে নতুন চারাও দ্রুত বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা
শনিবার সকালে পশ্চিম বাইশপুর, আমিরাবাদ, এখলাশপুর, মোহনপুর, দশানী, ষাটনল, গাজীপুর ও চরমাছুয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের পাশে সারি সারি তালগাছ দাঁড়িয়ে আছে। গাছে তাল ধরেছে, যা পথচারীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। স্থানীয়রা ফলন সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন।
পশ্চিম বাইশপুরের মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, "বাঁধ হওয়ার পর ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় ব্যাপক হারে তালের চারা লাগান স্থানীয় লোকজন। আমার ১০টি তালগাছ আছে, সব কটিতে তাল হয়েছে। তালের শাঁস ও পাকা তাল বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি, পরিবারেও খাচ্ছি।"
বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা
গাজীপুর এলাকার ওবায়েদ উল্লাহ দাবি করেন, তালগাছ শুধু ছায়াই দেয় না, বজ্রপাত থেকেও রক্ষা করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, তালগাছের কারণে এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমেছে। কৃষি বিভাগ আরও বেশি তালের চারা লাগাতে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করছে।
পরিবেশ ও অর্থনীতিতে প্রভাব
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম শাহেদ বলেন, "বাঁধের পাশে পাউবোর জায়গায় কৃষকেরা অনেক তালগাছ লাগিয়েছেন। পরিবেশ রক্ষায় এটি ইতিবাচক দিক।" তালের শাঁস ও পাকা তাল বিক্রি করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও ঋদ্ধ হচ্ছে।



