সিরাজগঞ্জে মাদ্রাসার পুকুরপাড় থেকে তালগাছ কাটা: পরিবেশ ধ্বংসের নিন্দনীয় ঘটনা
গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহ এখনো পুরোপুরি শুরু না হলেও, গরমের দাপটে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষ নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এই গরম থেকে মুক্তি পেতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে গাছপালা। কিন্তু প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে সামান্য আর্থিক লাভের আশায় ধ্বংস করা চরম আত্মঘাতী একটি কাজ। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দারুল হেফজ মাদ্রাসার পুকুরপাড় থেকে অন্তত নয়টি তালগাছ কেটে ফেলার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতিকর এই কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নববর্ষের ছুটিতে গাছ কাটার ঘটনা
গত মঙ্গলবার নববর্ষের ছুটির সুযোগ নিয়ে এই গাছগুলো কাটা শুরু হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণত সমাজকে আলোর পথ দেখানোর কথা বলে, কিন্তু তাদের নিজস্ব আঙিনায় এমন প্রকৃতিবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানো অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে আশার দিক হলো, স্থানীয় এক সচেতন শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাস খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে গাছ কাটায় বাধা দিয়েছেন। যদিও ততক্ষণে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়ে গিয়েছিল। ফয়সাল শুধু মৌখিক বাধা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও ও অতীতের ইতিহাস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে জানা যায়, একসময় ওই বিশাল পুকুরপাড়ে আড়াই শোর বেশি তালগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ধারাবাহিকভাবে এই মহামূল্যবান গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশিষ্ট কিছু গাছ রক্ষা করতে পেরেছিলেন। আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখতে হবে, তালগাছ কোনো সাধারণ উদ্ভিদ নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার বাংলাদেশে বজ্রপাত থেকে মানুষের অমূল্য প্রাণ বাঁচাতে এই গাছের প্রয়োজনীয়তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। পুকুরের পাড় ভাঙন রোধেও গাছগুলো পাহারাদারের ভূমিকা পালন করত। অথচ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি সামান্য অর্থের লোভে পরিবেশবান্ধব এই সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতার প্রমাণ দেয়। তাঁরা বলেছেন, কমিটি রেজোল্যুশন করে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত তাঁরা নিজের দায় এড়িয়ে গেছেন। তা ছাড়া কমিটি রেজোল্যুশন করেও গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে তালগাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তরুণ শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাসের এই সাহসী ও অনুকরণীয় পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। তরুণদের এই সজাগ দৃষ্টিই আগামীর সবুজ পৃথিবীর রক্ষাকবচ। আমরা আশা করি অবশিষ্ট তালগাছগুলোর সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কেটে ফেলা গাছগুলোর জায়গায় নতুন তালবীজ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।



