সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটা ও পুকুর ভরাটের দায়ে কারখানার জরিমানা ও কর্মকর্তার কারাদণ্ড
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় পাহাড় কাটা ও পুকুর ভরাটের দায়ে একটি কারখানাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং এক কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
কারখানার নাম ও অভিযোগের বিবরণ
কারখানাটির নাম মুকবুলুর রহমান জুট মিল। তবে নামে এখনো পাটকল কারখানা হলেও সম্প্রতি অন্য একটি প্রতিষ্ঠান সেখানে কনটেইনার ডিপো তৈরির কাজ করছিল। যাঁকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁর নাম ফরিদ আহমেদ। তিনি ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। কারখানার ভেতরের একটি পুকুরও ভরাট করা হয়েছে। ভরাটের কাজে পাহাড় কাটা মাটি ব্যবহার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া একই সময়ে কারখানার ভেতরে থাকা অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও কর্মকর্তার বক্তব্য
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা এলাকাটিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাহাড়ি টিলা কেটে সমান করে ফেলা হয়েছে। কারখানাটি বিক্রির পর একটি কনটেইনার ডিপো তৈরির কাজ চললেও এখনো সেটি কাগজে-কলমে মুকবুলুর রহমান জুট মিলের নামে। তাই অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা এবং পুকুর ভরাটের দায়ে ওই কারখানার এক কর্মকর্তাকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়মিত মামলা করার জন্য বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশ বিরোধী কার্যক্রম রোধ করা যায়। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবেশগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
পাহাড় কাটা এবং পুকুর ভরাটের ফলে স্থানীয় পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এটি মাটি ক্ষয়, বন্যা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



