ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও গাছ রোপণ
ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ, জরিমানা ও গাছ রোপণ

ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ, জরিমানা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ রোপণ

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি অবৈধ সীসা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে কারখানার আশপাশে গাছ রোপণের মতো প্রতীকী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন ও সুতিপাড়া ইউনিয়নের সাহা-বেলিশ্বর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মোট তিনটি কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়।

ভাড়ারিয়া এলাকার দুটি কারখানায় কোনও উৎপাদন কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও সাহা-বেলীশ্বর এলাকায় একটি কারখানায় সীসা প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলমান অবস্থায় ধরা পড়ে। তখনই ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং জরিমানা ও মেশিন জব্দের আদেশ জারি করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, ‘সীসা প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। এই ধরনের কারখানা থেকে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে কারখানার আশপাশে গাছ লাগানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব গাছের নিয়মিত পরিচর্যার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে

ধামরাই উপজেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ সীসা কারখানার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। যে কোনও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ অভিযানটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন আশা করছে যে এর মাধ্যমে অন্যান্য অবৈধ কারখানার মালিকরাও সতর্ক হবেন এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।