প্রকৃতির সান্নিধ্য হারানো: বন, পাহাড় ও গ্রামের স্মৃতি থেকে দূরে একাকী ভাবনা
প্রকৃতির সান্নিধ্য হারানো: বন, পাহাড় ও গ্রামের স্মৃতি

প্রকৃতির সান্নিধ্য হারানো: একাকী ভাবনার গল্প

বর্ষার এক মেঘ-কালো অন্ধকারে বসে ভাবতে শুরু করেছিলাম— এবার হয়তো বনে যাব, সবুজ দেখব, নির্জনতার নির্মল বাতাস নেব, আহারে বন্য ফল খাব। জ্যোৎস্নারাতে ‘আরণ্যক’ পড়ব। কিন্তু, সেটা সম্ভব হয়নি। কারণ শুনলাম, বনে নাকি সবুজের অভাব, পাখিরা সব ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছে। তারপর ভেবেছিলাম, পাহাড়ে যাব, চারটি গাছের খুঁটিতে নড়বড়ে ঘর বানাব, রক্ত-আলোয় সূর্যের বিলীন হওয়া দেখব। কবিতা পড়ব, শুকনো পাতায় পা দেব; মড়মড়ে শব্দ শুনব। গল্প লিখব নির্জনতা ও নিস্তব্ধতার, জিজ্ঞেস করব কোকিলকে, কেমন করে পেলে তুমি এমন সুরের গলা। সেটাও হয়নি— গাছগুলো সব কেটে সাফ করা হয়েছে, কোথায় পাব শুকনো পাতা, সূর্যটা রোজ ঢাকা পড়ে কারখানার ধোঁয়ায়। কোকিলেরা নাকি বনছাড়া, শিকার হওয়ার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রামীণ জীবনের স্মৃতি ও বর্তমান বাস্তবতা

এই তো, সেদিন বসে বসে ভাবলাম, জসীমউদ্‌দীনের পল্লিতে যাব, নদীতে— মাছ ধরব, সাঁতার কাটব, শিশু-কিশোরদের ডিগবাজি দেখব। নবান্নের পিঠা আর বিন্নি ধানের খই খাব। কুপির আলোয় সুনীল পড়ব। কিন্তু, সেটাও হয়নি। জসীমউদ্‌দীনের গ্রাম, নদী, মাছ— এসবের নাকি দেখা মেলা দায়। খেলার মাঠে কিশোর কোথায়, কোথায় পাব নবান্ন, কুপি, কোথায় পাব খই। আর কাব্য, গল্প, উপন্যাস; পাতায় পাতায় ধুলো জমা হয়ে আছে।

তাহলে কি আমি ভালোই আছি— ইচ্ছে হলে হারাতে পারি, আনমনে সব ভাবতে পারি, আপন মনে শব্দ খেলি। এই ভাবনাগুলো প্রকৃতির সান্নিধ্য হারানোর এক গভীর প্রতিফলন। লেখক সুজন কুমার মিত্র, পিএইচডি গবেষক, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি থেকে দূর পরবাসে বসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected] দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন ইউরোপ দূর পরবাস ইউরোপ দূর পরবাস কবিতা জীবনের গল্প দূর পরবাস কবিতা জার্মানি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ