বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ষষ্ঠ স্থানে
বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী ঢাকা বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ১৮১, যা 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত। এই মাত্রার বায়ু দূষণ সাধারণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বায়ু মান সূচক স্কেল।
শীর্ষ তিনে দিল্লি, লাহোর ও বেইজিং
ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর এবং চীনের বেইজিং শহর এই তালিকার শীর্ষ তিন স্থান দখল করেছে। তাদের বায়ু মান সূচক স্কোর যথাক্রমে ৩১৭, ২০৫ এবং ১৯০ রেকর্ড করা হয়েছে। দিল্লির বায়ু মান সূচক 'বিপজ্জনক' শ্রেণিতে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির নির্দেশক।
বায়ু মান সূচকের শ্রেণিবিভাগ
বায়ু মান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের স্কোর 'বিপজ্জনক' শ্রেণিভুক্ত হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ঢাকার বর্তমান স্কোর ১৮১ হওয়ায় এটি 'অস্বাস্থ্যকর' ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
বায়ু মান সূচক কীভাবে কাজ করে?
বায়ু মান সূচক দৈনিক বায়ুর গুণমান প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাবগুলো তুলে ধরে। বাংলাদেশে বায়ু মান সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, নির্মাণ কাজের ধুলা এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কার্যক্রম ঢাকার বায়ু দূষণের মূল কারণ। শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নগরায়নের চাপ এই সমস্যাকে আরও তীব্র করছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।



