বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে ঢাকা, শীর্ষে দিল্লি
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে মেগাসিটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা শহরও এই দূষণের কবলে পড়েছে। বেশ কিছু সময় ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম সারিতেই অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ১৮১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই বায়ুমান স্কোরটি 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে গণ্য করা হয়, যা শহরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকা
আইকিউএয়ারের সূচকে দেখা যায়, ভারতের রাজধানী দিল্লি শহরটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, যার বায়ুমান স্কোর ৩০৫। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, যার স্কোর ২০৫। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং, যার স্কোর ১৯০। চতুর্থ অবস্থানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু রয়েছে, যার স্কোর ১৮৮। পঞ্চম অবস্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরটি আছে, যার স্কোর ১৮২। এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ হওয়ায় শহরটির বায়ুদূষণের ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বায়ুমান স্কোরের অর্থ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
একিউআই স্কোরের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো বায়ুমান হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়, আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর' বায়ু নির্দেশ করে। ঢাকার ১৮১ স্কোর এই বিভাগে পড়ে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। দিল্লির ৩০৫ স্কোর এই বিভাগে পড়ে, যা শহরটির বায়ুদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
বায়ুদূষণের এই ক্রমবর্ধমান সমস্যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঢাকার মতো শহরগুলোতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। শহরের বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



