খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটার অভিযোগ সত্য, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসছে সাত কর্মদিবসে
খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটার অভিযোগ সত্য, তদন্ত প্রতিবেদন আসছে

খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটার অভিযোগ সত্য, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে সাত কর্মদিবসে

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় পাহাড় কাটা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে পরিদর্শন ও আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা

তদন্ত কমিটি উপজেলার খাড়িছড়া, এয়াতলংপাড়া, মরাডলু, লেমুয়া, তিনটহরী ও বড়ডলু এলাকায় মাটি খেকোদের স্কেভেটর ব্যবহার করে কাটা পাহাড়গুলো দেখেন। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির হোসেন বলেন, 'ইত্তেফাকে প্রকাশিত পাহাড় কাটার রিপোর্টের সত্যতা পেয়েছি। যে কারণেই পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসন পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। যেসব পাহাড় কাটা হয়েছে সেগুলো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, তবে এখন থেকে আর একটি পাহাড়ও যাতে কেউ কাটতে না পারে তা কঠোরভাবে দেখা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, সাত কর্ম দিবসের মধ্যেই তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদনে তারা গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় পাহাড় কাটা রোধে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রস্তাবগুলো সংযুক্তসহ উপজেলা পর্যায়ে পাহাড় কাটা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সুপারিশ করবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেক্ষাপট ও সরকারি পদক্ষেপ

প্রসঙ্গত, গত সোমবার ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণ ও বুধবার ইত্তেফাকের শেষে পাতায় 'খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন!' শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

এরই প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি জরুরি সভা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐদিনই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)কে আহ্বায়ক ও চটগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জমির হোসেনকে সদস্য করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই ঘটনা পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী দিনে পাহাড় কাটা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।