পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি: ইটভাটা উচ্ছেদ থেকে ম্যানগ্রোভ বনায়ন পর্যন্ত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ
পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি: ইটভাটা উচ্ছেদ থেকে ম্যানগ্রোভ বনায়ন

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি: ইটভাটা উচ্ছেদ থেকে ম্যানগ্রোভ বনায়ন পর্যন্ত বিস্তৃত উদ্যোগ

দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি জাতীয় সংসদে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদই নয়, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সংসদে পরিবেশ মন্ত্রীর বিস্তারিত বক্তব্য

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সেখানে বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণরূপে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে।"

তিনি আরও বিস্তারিত তথ্য যোগ করেন যে, নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত অভিযানে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ রোধে বহুমুখী পদক্ষেপ

পরিবেশ মন্ত্রী শব্দ দূষণ রোধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি দূষণ রোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এই পদক্ষেপগুলি পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকারের বহুমুখী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া, তাই এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।"

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে 'জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ)' এবং 'জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)' প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং এক কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অগ্রগতি

কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে 'বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)' গঠন করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত 'বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে' (সিসিটিএফ) মোট চার হাজার ১৫১ দশমিক ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯৮৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৮২৮টি প্রকল্প ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের এই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপগুলি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।