বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরও এই পরিবেশগত সংকটের কবলে রয়েছে। বুধবার, ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান
আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা শহরের বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ১৪৭ রেকর্ড করা হয়েছে। এই স্কোরের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দশম অবস্থানে রয়েছে। বায়ুমানের এই মাত্রা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
শীর্ষ পাঁচ দূষিত শহর
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। দিল্লির একিউআই স্কোর ৩১০, যা অত্যন্ত উচ্চমাত্রার দূষণ নির্দেশ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর, যার স্কোর ২২১। তৃতীয় স্থানে আছে সেনেগালের রাজধানী ডাকার, যার স্কোর ২২০।
এছাড়া, চতুর্থ স্থানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু রয়েছে, যার স্কোর ১৯২। পঞ্চম অবস্থানে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহর স্থান পেয়েছে, যার স্কোর ১৮৩। এই শহরগুলোর বায়ুদূষণের মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একিউআই স্কোরের স্বাস্থ্যগত ব্যাখ্যা
বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোরের ভিত্তিতে বায়ুর গুণমানকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো বায়ু হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বায়ু নির্দেশ করে, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে পারে।
১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সাধারণভাবে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যা সকলের জন্য ক্ষতিকর। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ুকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়, অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখতে বলা হয়।
৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরের মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাত্রার বায়ুদূষণ নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
বায়ুদূষণের প্রভাব ও সতর্কতা
বায়ুদূষণের উচ্চমাত্রা শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বাইরের কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হবে এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
ঢাকার মতো মেগাসিটিতে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধুলা বায়ুদূষণের প্রধান উৎস। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।



