বাগেরহাট মাজারে কুমিরের শিকারে কুকুর মৃত্যু: ময়নাতদন্তে জলাতঙ্ক পরীক্ষা
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের শিকারে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর এবার মৃত কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী। তিনি উল্লেখ করেন, কুকুরটির মাথা রাজধানীর সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। ল্যাবরেটরি থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা তা স্পষ্ট হবে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায় ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুকুর ঘাটে অর্ধেক পানিতে নেমে আছে এবং কিছুক্ষণ পর কুমিরটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজন দর্শনার্থীকে কামড় দেওয়ার পর নিজে থেকেই ঘাটের দিকে যায়। একপর্যায়ে পানিতে নামলে কুমিরটি তাকে শিকার করে। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা সেটি মাটিচাপা দেন। স্থানীয় দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়।
তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো সম্পর্কে সতর্ক করেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনোই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় ভক্তরা কুসংস্কার থেকে জীবন্ত প্রাণী ছুড়ে দিতে চান, যা বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কুমিরের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে এটিই জীবিত আছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পেড়েছে এবং ডিম দেওয়ার সময় মা কুমির হিংস্র হয়ে যায়, যা এই ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম মতামত দেন যে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের সামনে দিয়ে থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য আশা করা হচ্ছে।



