বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়, হ্যানয় ও দিল্লির পরেই
বিশ্বের ১১৭ শহরের মধ্যে আজ শুক্রবার সকালে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ঢাকার বায়ুর মান ১৬৫ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের এই মানকে অস্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বৃষ্টি ও ছুটির দিনেও দূষণ কমেনি
গত বুধবার প্রায় সারা রাত এবং বৃহস্পতিবার কিছুটা বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার বায়ুদূষণ কমেনি। সাধারণত বৃষ্টি হলে বায়ুর মান উন্নত হয়, কিন্তু আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় যানবাহন চলাচল ও কলকারখানার কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান দুই উৎস যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও এই পরিস্থিতি পরিবেশগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের শীর্ষ শহর
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়, যার বায়ুর মান ১৭৬ স্কোর। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারতের দিল্লি, ১৭০ স্কোর নিয়ে। ঢাকা এই তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে পরিবেশগত ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঢাকার বেশি দূষিত এলাকাগুলো
আজ ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকা হিসেবে শীর্ষে আছে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার, যার বায়ুমান ২৩৭ স্কোর। এরপর যথাক্রমে অবস্থান করছে:
- গুলশান লেক পার্ক (১৯৫ স্কোর)
- উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ (১৭৮ স্কোর)
- বারিধারা পার্ক রোড (১৭৬ স্কোর)
- বারিধারা লেক সাইড (১৭৪ স্কোর)
- সাগুফতা (১৭৪ স্কোর)
- গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (১৬৮ স্কোর)
- তেজগাঁওয়ের শান্তা ফোরাম (১৬১ স্কোর)
- পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ী (১৫৪ স্কোর)
নগরবাসীর জন্য সুরক্ষা পরামর্শ
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান রেকর্ড করা হয়েছে, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরা উচিত। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ দূষিত বাতাসে শারীরিক পরিশ্রম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এছাড়া, ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে, যাতে দূষিত বাতাস ভেতরে প্রবেশ না করে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা সমাধানে পরিবেশবান্ধব নীতি ও জনসচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। ঢাকার বায়ুর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনস্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হতে পারে।



