খুলনাকে সবুজ ও ধুলোবিহীন শহর গড়তে নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহরটিকে একটি সবুজ, পরিষ্কার ও ধুলোবিহীন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চলমান প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কারিতাস বাংলাদেশের আয়োজনে রাউন্ডটেবিল আলোচনা
বুধবার খুলনার কারিতাস বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ে “জলবায়ু-প্ররোচিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক এক রাউন্ডটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঞ্জু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আলোচনার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
জলাবদ্ধতা ও স্লামবাসীদের উন্নয়নে উদ্যোগ
খুলনার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন কেসিসি প্রশাসক। পাশাপাশি শহরের বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পিত প্রকল্পের কথাও জানান তিনি।
মঞ্জু শহরে ক্রমবর্ধমান ই-বাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপের কথাও বলেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন পরিকল্পনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ও আলোচকদের উপস্থিতি
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিতাস খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ।
কুয়েটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কারিতাসের কারিগরি বিশেষজ্ঞ এমানুয়েল চায়ান বিশ্বাসও বক্তব্য রাখেন।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজনে সমন্বয়ের ঘাটতি
আলোচকরা উল্লেখ করেন যে, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (সিসিএ) নীতিতে জোর দেওয়া সত্ত্বেও, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় একটি সমন্বিত পদ্ধতি এখনও অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে।
এই রাউন্ডটেবিলের লক্ষ্য ছিল সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, গবেষক, সুশীল সমাজ ও সম্প্রদায় নেতাদের মধ্যে নীতি সংলাপকে উৎসাহিত করা। সামাজিক সুরক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ, ডিআরআর-সিসিএ কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় উন্নতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল নীতি প্রণয়নের ওপর ফোকাস করা হয়।
বিভিন্ন স্তরের অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং সম্প্রদায় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এই বহুস্তরীয় অংশগ্রহণ জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
খুলনা শহরের পরিবেশগত উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি নাগরিক সম্পৃক্ততার অপরিহার্যতাই এই আলোচনার মূল বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে।



