বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী
বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বে দ্বিতীয়

বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুদূষণ: বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজধানী

রাজধানী ঢাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, এই বৃষ্টির পর সাধারণত বায়ুমান উন্নত হওয়ার কথা থাকলেও আজ বুধবার সকালে বাস্তবতা ভিন্ন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা আজ সকাল ৯টার দিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

বায়ুমানের হালনাগাদ তথ্য

আজ সকালে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১৫২, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। আইকিউএয়ারের লাইভ সূচকটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শহরের বাতাসের গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদান করে থাকে। এই সূচক মানুষকে বায়ুদূষণের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন করে ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে উৎসাহিত করে।

বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের চিত্র

বিশ্বের ১২১টি নগরীর মধ্যে আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই শহর, যার বায়ুমান ১৮৪। ঢাকা এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে, যা পরিবেশগত উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে ঝড়বৃষ্টি বাড়লে বায়ুদূষণ কমে, কিন্তু এবার সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াও কার্যকর হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকার দূষিত এলাকাগুলো

আজ ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, যার বায়ুমান ১৭১। এরপর যথাক্রমে বারিধারা পার্ক রোড (১৫৯), গুলশানের বেজ এইজ ওয়াটার (১৫২), এবং উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ (১৫২) এলাকাগুলোতে উচ্চ মাত্রার দূষণ রেকর্ড করা হয়েছে।

নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা পরামর্শ

আইকিউএয়ারের নির্দেশিকা অনুসারে, বর্তমান বায়ুমান বিবেচনায় ঢাকাবাসীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে।
  • বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে, যাতে দূষিত বায়ু ভেতরে প্রবেশ না করে।

রাজধানীসহ সারাদেশে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য একের পর এক প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাত দূষণ কমানোর একটি প্রাকৃতিক উপায় হলেও তা এখন পর্যাপ্ত নয়, আরও কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ প্রয়োজন।